যে গাছের পাতা স্পর্শ করলে আপনি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করবেন!

গাছটির পাতাগুলো দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের পান পাতার মত । পাতাগুলোর চারপাশ ঘিরে থাকে ছোট ছোট হুল বা কাঁটা। ছোট পাতার হুলগুলো সাদা চুলের মতো হয়, যা অনেক সময় খালি চোখে দেখা যায় না।

 

Loading...

এই পাতাগুলো বিষাক্ত। এইসব পাতাতে স্পর্শ করলেই আপনি শরীরে তীব্র ব্যথা অনুভব করবেন। আসতে আসতে সেই ব্যথা বাড়তে থাকবে। এক পর্যায়ে সে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে আপনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবেন।

 

গাছটির নাম ‘ডেনড্রোনাইড মোরোইডস’। তবে অনেকে একে যন্ত্রণাদায়ক গাছ বা আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী গাছ বলে থাকে। এই গাছগুলির অস্ট্রেলিয়ার একটি রেইন ফরেস্টে দেখা মিলে। স্থানীয়ভাবে গাছটি ‘গিম্পি গিম্পি’ নামেই অধিক পরিচিত।উপযুক্ত পরিবেশে গাছগুলো লম্বায় প্রায় চল্লিশ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

 

তবে অধিকাংশ গাছই দেড় মিটারের বেশি হতে দেখা যায় না। এই সব গাছের পাতার মাঝে সুঁইয়ের মতো কাঁটাগুলি বেশ শক্তিশালী নিউরোটক্সিন ধারণ করে। এই নিউরোটক্সিন হুলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে অসম্ভব ব্যাথার উদ্রেক ঘটাতে পারে।

 

ব্যথা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রথমে মাংসপেশীতে এবং পরবর্তীতে অস্থিমজ্জায় ছড়িয়ে যায়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির এমন ব্যথা সহ্য করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই ব্যথা যেকোনো পশুকে মৃত্যুর দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

 

মানুষের ক্ষেত্রে ব্যথার পরিমাণ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, আক্রান্ত ব্যক্তিটি আত্মহত্যাই একমাত্র মুক্তির উপায় হিসেবে ধরে নেয়। তবে এই ধরনের অনুভূতি একমাত্র চরম পর্যায়ে হয়ে থাকে।

 

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও পরিবেশবিদ মারিনা হার্লে অনেক বছর ধরেই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন গাছের উপর গবেষণা করে আসছেন। তার মতে, গাছটির পাতাগুলো এতটাই সংবেদনশীল যে নিঃশ্বাসের সাথেও যদি কোনো কারণে এর হুল নাকের ভেতর ঢুকে যায়, তবে সর্দি, এমনকি নাক থেকে রক্ত পর্যন্ত পড়তে পারে।

Loading...