ভালবাসাপূর্ণ বাগেরহাটের এক প্রতিবন্ধী পরিবারের মানবেতর জীবন

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার এক প্রতিবন্ধী পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় বিবাহিত মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে পারছে না। মেয়ে ইতোমধ্যে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ১৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে দিয়েছে কাজে। স্থানীয় একটি এনজিও তাদের টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। অর্থ ও তথ্যের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

সংসারে অভাব, নানা সংকট থাকলেও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি সমান-অনুভূতি, ভালবাসা রয়েছে পরিপূর্ণ। এসব কথা জানান দরিদ্র দেবদাস মজুমদার (মন্নি)।চরবানিয়ারী ইউনিয়নের শ্যামপাড়া গ্রামের দাবা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত দেবদাস মজুমদার স্ত্রী, ছেলেসহ নিজে শারীরিক প্রতিবন্ধী। কুঞ্জবিহারী ও স্বর্ণলতা মজুমদারের ছেলে দেবদাস।দেবদাস মজুমদার জানান, আশার আলো ফাউন্ডেশন নামে একটি স্থানীয় এনজিওতে জমানো প্রায় ৬০ হাজার টাকা নিয়ে কর্মী বলাই উধাও হয়ে গেছে।

Loading...

চিতলমারী শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ সড়কে এনজিওটির অস্থায়ী কার্যালয়ে তালাবদ্ধ। সাইনবোর্ডটিও রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে। গত মাস খানেক ধরে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।দেবদাস আরো জানান, আট বছর বয়সে হা-ডু-ডু খেলতে গিয়ে তার আঘাত লাগে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্রমান্বয়ে সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। ৩০ বছর বয়সে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা গ্রামের ননী বাওয়ালীর মেয়ে ফুলি রানীর সাথে তার বিয়ে হয়।

জন্ম নেয় মেয়ে মল্লিকা ও ছেলে মহানন্দ। মেয়ের বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে জমি লিখে না দেওয়ায় তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মেয়েকে নিচ্ছে না। শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে মহানন্দ (১৬) একটি বেকারির দোকানে কাজ করে। তৃতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠের সময় অপারেশনকালে স্ট্রোক করে ফুলি রানী। ক্রমান্বয়ে সেও এখন প্রতিবন্ধী। চিতলমারী-বাগেরহাট প্রধান সড়কের পাশে একটি জীর্ণ ঘরে বসবাস করে। মুদি দোকানটি দেনার কারণে বন্ধ করে দিয়েছে দেবদাস।চরবানিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল জানান, সে ইউনিয়ন পরিষদ হতে ভাতা ও চাল পায়।

Loading...