কিশোরগঞ্জের হাওড়ে এক মণ ধানে মিলছে না এক কেজি মাংস!

কিশোরগঞ্জের হাওড় মূলত ইটনা, মিটামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলা নিয়েই গঠিত। এ অঞ্চলের প্রধান পাইকারী আড়ৎ চামড়া নৌবন্দর।এ বাজারে বোরো হাইব্রিড ধান মণ প্রতি ৫৫০ টাকা, ব্রি ২৯ ও ব্রি ২৮ ধান ৬৫০ টাকা মণে কৃষকরা বিক্রি করছেন। অথচ এক মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ৭০০ টাকার সামান্য বেশি।

বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ অবস্থা যদি চলতে থাকে তবে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, সুদ ও লগ্নির টাকা তুলতে না পারার হতাশা ব্যক্ত করেন।

ইটনার চৌগাঙ্গার কৃষক জানান, তার দুই একর জমিতে ১৪০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে প্রতি মনে খরচ হয়েছে ৭০০ টাকার কিছু বেশি কিন্তু বর্তমান বাজারে মণ প্রতি বিক্রি করতে হয়েছে ৬৫০ টাকা করে।

মিটামইনের ঢাকীর কৃষক সুলেমান জানান, তিন একর জমিতে তিনি ২০০ মণ ধান উৎপাদন করে ৬৫০ টাকা করে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন কিন্তু মণ প্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৭০০ টাকা। বর্তমানে বাজারে এক কেজি খাসির মাংস ৭৮০ টাকা তাই এক মণ ধানের টাকায় এক কেজি খাসির মাংসও কিনতে পারছি না।

অষ্টগ্রামের আবদুল্লাপুরের কৃষক ছমির উদ্দিন জানান, ৫ একর জমিতে প্রায় ৪০০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে কিন্তু বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দাম পেয়েছি ৬৫০ টাকা মণ, আর তাই মণ প্রতি ৪০/৫০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এক মণ ধানের টাকায় এক কেজি খাসির মাংস কিংবা দেড় কেজি গরুর মাংসও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

নিকলীর জারুইতরা এলাকার কৃষক বাবুল মিয়া জানান, এক মণ বোরো ধানের দাম ৬৫০ টাকা অথচ ধান বিক্রি করে কামলা খরচ ও ধার দেনা সুদ করেই টাকা শেষ সংসার চালাব কি ভাবে তাই নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান, বাম্পার ফলনের কারণে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পৌঁনে সাত লাখ টন অতিক্রম করবে বলে আশা করছি। তবে ন্যায্য মূল্য না পেলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।