একাদশে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে

কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ। এবার নির্ধারিত আসনে শতভাগ শিক্ষার্থীই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিষয়ক এক সভায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়।

এবার মোট তিন দফায় আবেদন নেয়া হবে। ফল প্রকাশও হবে তিনবার। প্রথম দফায় ২৪ মে পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। দ্বিতীয় দফায় ১৯ ও ২০ জুন এবং তৃতীয় দফায় ২৪ জুন আবেদন করা যাবে।

Loading...

আবেদনের পর কলেজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে শিক্ষার্থীর কলেজ-মাদ্রাসায় বরাদ্দকৃত আসনের পাশাপাশি আবেদনটিও বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে তাকে পরের বার আবেদন করতে হবে।

আটটি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড থেকে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন। আর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উত্তীর্ণরা একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণরা যে কোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণরা মানবিকের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হতে পারবে। ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের মেধাক্রম সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে। এরপরেও একই নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে সুরাহা না এলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।

আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত গ্রেড পয়েন্ট বিবেচনা করা হবে। এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট গ্রেড পয়েন্ট একই হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনতে হবে।

চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। অনলাইনের পাশাপাশি টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। প্রথমপর্যায়ে আবেদনকারীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ জুন।

এর আগে এসএসসি ও দাখিলের ফলাফলের পুনঃনিরীক্ষণে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ৫ ও ৬ জুন আবেদন নেয়া হবে। আবেদন সংক্রান্ত আপত্তি-অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ থেকে ২৭ মে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেয়া হবে ১৯ ও ২০ জুন। ফল দেয়া হবে ২১ জুন।

একইদিন পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল (প্রথমবার কলেজ পছন্দ না হওয়া প্রার্থীদের বিকল্প কলেজ) প্রকাশ করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নেয়া হবে ২৪ জুন। পরের দিন দ্বিতীয় পর্যায়ের মাইগ্রেশন এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফলপ্রকাশ করা হবে। ২৭ থেকে ৩০ জুন শিক্ষার্থী ভর্তি শেষে আগামী ১ জুলাই ক্লাস শুরু হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইনে ১৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে। তবে অনলাইনে কীভাবে আবেদন করা যাবে সে বিষয়ে নীতিমালায় বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে।

প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা ফি দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা মাদ্রাসায় অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একজন যতগুলো কলেজে আবেদন করবে তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি মাত্র কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

ভর্তি ফি

এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯ হাজার টাকা (বাংলা মাধ্যম) ও ১০ হাজার টাকা (ইংরেজি মাধ্যম) ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হবে।

সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না। অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রসিদ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে ২ হাজার টাকা, ঢাকা ব্যতীত অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। সরকারি কলেজগুলো পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফি যতদূর সম্ভব মওকুফ করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুমোদিত ফির বেশি নেওয়া যাবে না। নীতিমালা লঙ্ঘন করা হলে এমপিওভুক্তি বাতিল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট- www.xiclassadmission.gov.bd এবং স্ব স্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে আজ দুপুর ২টার পর জানা যাবে।

গত বছরের মতো এবারও ১১ শতাংশ আসনে কোটায় ভর্তি করা হবে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা-৫ শতাংশ, বিভাগীয় ও জেলা সদর-৩ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধঃস্তন দফতরগুলো ২ শতাংশ, বিকেএসপি-০.৫ এবং প্রবাসী ০.৫ শতাংশ আছে। কোটায় উপযুক্ত শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলেও অন্য কাউকে ভর্তি করা যাবে না।

Loading...