যে কারণে প্রত্যেকের নিয়মিত কিসমিস খাওয়া উচিত

কিসমিসকে শুকনো ফলের রাজা বলা হয়। সোনালী-বাদামী রংয়ের চুপসানো ভাঁজ হওয়া এই ফলটি খুবই শক্তিদায়ক। কিসমিস খেলে শরীরের রক্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়, পিত্ত ও বায়ুর সমস্যা দূর হয়। তাই কিসমিসকে অবজ্ঞা নয়, ছোট ছোট এই ড্রাই ফ্রুটে রয়েছে অনেক উপকারিতা।

– কিসমিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। আর এর মিষ্টত্ব শরীরে শক্তি জোগায়। এতে কর্মক্ষমতা বাড়ে।

– হৃৎপিণ্ডের সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের তো রোজ কিসমিস খাওয়া উচিত। কারণ তা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

বাচ্চারা ক্যান্ডি ও চকলেট খেয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু এগুলির পরিবর্তে বাচ্চাদের কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করালে দাঁতের সুরক্ষা হবে। একই স্বাদ পাওয়ার সাথে সাথে বেম উপকারও পাবে। চিনি থাকার পাশাপাশি কিসমিসে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড, যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাঁধা দেয়।

– প্রত্যেক মহিলার দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ কিসমিস খাওয়া উচিত। এতে শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি পাবে কিন্তু কোনো ফ্যাট থাকবে না।

– বেশিরভাগ মহিলার শরীরে আয়রনের কমতি থাকে। তারা রক্তাল্পতায় ভোগেন। এমন সমস্যায় কিসমিস ভীষণ উপকারে লাগে। এতে প্রচুর মাত্রায় আয়রন থাকে।

– ছোট্ট এই ড্রাই ফ্রুটে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়ামও থাকে। যা পেশি সংকোচনের হার কমিয়ে দেয়। আবার স্নায়ুতে রক্তপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

– কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় শক্তিশালি করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কিসমিসে রয়েছে বোরন নামক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস, যা হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্ষয় এবং বাতের ব্যথা থেকে দূরে রাখবে। বর্তমানেঅনেক রোগী অস্টিওপরোসিস (হাড়ের একধরনের রোগ) আক্রান্ত হচ্ছেন। বোরন নামক খনিজ পদার্থের অভাবে এই রোগ হয়। কিশমিশে আছে প্রচুর পরিমাণ বোরন, যা অস্টিওপরোসিস রোগের প্রতিরোধক।

– উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। কিসমিস রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

– লিভার ও কিডনির সমস্যাতে কিসমিস ভীষণ উপকারি। শুধু কিসমিস কেন কিসমিস ভেজানো পানি খেলেও এই উপকার পাওয়া যায়।

প্রণালি :
প্রথমে একটি পাত্রে দুই কাপ পানি নেবেন। তাতে দেড়শো গ্রাম কিসমিস দিয়ে সারারাত রেখে দেবেন। পানিতে দেয়ার আগে কিন্তু কিসমিসগুলো অবশ্যই ধুয়ে নেবেন। পরদিন সকালে কিসমিস ছেঁকে নিয়ে পানিটি হালকা গরম করে নেবেন। এরপর ওই পানিটি খেয়ে নেবেন।

তবে কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার পরের আধা ঘণ্টা কিছু খাবেন না। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এভাবে কিসমিস ভেজানো পানি খেলে, প্রভাব নিজেই বুঝতে পারবেন।