এই রোজায় ডায়াবেটিক রোগীদের যা করণীয়

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচরণ হলো রমজান মাসে রোজা রাখা। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় ২০ কোটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মুসলমান রমজানে রোজা রাখেন। রোজার সময় একজন মানুষকে ভোররাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও মৌসুমভেদে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ সময়কাল সর্বোচ্চ ২১ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের দেশে সাহ্রী ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময় সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা হয়ে থাকে। এ দীর্ঘ সময় একজন ডায়াবেটিস রোগীর না খেয়ে থাকা উচিত হবে কিনা, তা নিয়ে অনেক বছর ধরে বহু বিতর্ক হয়েছে। অবশেষে পৃথিবীর মুসলিম ও অমুসলিম ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা সর্বসম্মতভাবে মত দিয়েছেন যে, ডায়াবেটিস রোগীর পক্ষে রোজা রাখা ক্ষতিকর।

এ কথা জেনেও যেসব ডায়াবেটিস রোগী রোজা রেখেছেন তাদের রমজান শেষে আবার রমজান-পূর্ববতী স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে কিছু সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ হলো-

১. প্রথমেই রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ জেনে নিতে হবে (অভুক্ত অবস্থায়, সকালে নাশতার ২ ঘণ্টা পরে, দুপুরে খাওয়ার আগে ও ২ ঘণ্টা পরে ৬ বার)।
২. রক্তের HbA1C পরীক্ষা করাতে হবে
৩. কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা করাতে হবে
৪. প্রস্রাব পরীক্ষা করাতে হবে
এসব পরীক্ষার রিপোর্ট আপনার চিকিৎসককে দেখাবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবেন।
তবে সাধারণভাবে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সংযমী ও বিবেচক হওয়া অতি জরুরি।
* প্রতিদিনের ক্যালরি গ্রহণ সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
* প্রচুর তরল খাদ্য গ্রহণ করবেন।
* এক মাস যাবৎ প্রধানত রাতের বেলা খাদ্য গ্রহণ ও দিনের বেলা না খেয়ে থাকার পর ঈদুল ফিতরের দিন থেকে আবার স্বাভাবিক খাদ্য পদ্ধতি, দিনের বেলায় প্রধান আহারগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্য গ্রহণের যে শৃঙ্খলা আনতে হবে, সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট হিসাবি ও সাবধানী হতে হবে। রমজান শেষে হঠাৎ বিপুল খাদ্য গ্রহণের দিকে ধাবিত হওয়া উচিত হবে না। বরং প্রাক-রমজান সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
* ঈদের আনুষ্ঠানিকতায় গা ভাসিয়ে দিয়ে প্রচুর সেমাই, পায়েস, পোলাও, বিরিয়ানি খাওয়া উচিত হবে না।
* দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে যত দ্রুত সম্ভব শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
* কারো কারো পাতলা পায়খানা, বুক জ্বালা করা ও হজমে সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
সবাইকেই তার নিজের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল