বড় ধরনের ভুল করছে ইরান!

২০১১ সালে সিরিয়ার গণঅভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। যুদ্ধের প্রথম দিকে সিরীয় সৈন্যদের প্রশিক্ষণদানের জন্য সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর মধ্যেই তেহরানের হস্তক্ষেপ সীমাবদ্ধ ছিল।

বর্তমানে ইরান বেশ কিছু শিয়া মিলিশিয়া রিক্রুট করছে এবং তাদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে সিরিয়ার যুদ্ধ ক্ষেত্রে সরকারপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে।২০১৩ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে সরকারবিরোধী বাহিনী যখন সিরিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন ইরানি সামরিক উদ্যোগ আসাদ সরকারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।

Loading...

২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দি লেভান্টের (আইএসআইএল) উত্থানে তেহরান ‘ওয়ার অন টেরর’ তথা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে সিরিয়ার যুদ্ধে বিজেদের সম্পৃক্ততাকে বৈধতা দেয় এবং সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করে। ওই বছর প্রচলিত সামরিক বাহিনী আইআরজিসিতে যোগদান করে।

তারা তাদের আফগান ও পাকিস্তানি শিয়া মিলিশিয়া (যথাক্রমে ১৪ হাজার শক্তিশালী ফাতেমি ডিভিশন ও পাঁচ হাজার সৈন্যের শক্তিশালী জিনারি ব্রিগেড) এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে সিরিয়ার যুদ্ধে যোগদান করে।২০১৫ সালের গ্রীষ্মে ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিদেশ শাখা আল কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সুুলেমানি মস্কো সফর করেন।

তিন মাস পর রাশিয়া সিরিয়ায় তাদের স্থলবাহিনী মোতায়েন করে এবং সিরিয়ার বাশার সরকারের জন্য আকাশপথ নিরাপদ করাতে বিমানবাহিনীর মাধ্যমে বোমা হামলা জোরদার করে। রাশিয়া ও ইরানের সমন্বিত অভিযান অবশেষে আসাদ সরকারকে রক্ষা করেছে।

সিরিয়ার যুদ্ধে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং লাশের ঝুলি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানি জনগণের কাছে সিরিয়ার নৌযুদ্ধে ইরানের সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ইরান সরকার তৎপর হয়ে ওঠে।

Loading...