একটানা ৪ ঘন্টা অন্ধকার ঘরে অপারেশন করল ‘জিন’,!

গ্রামে জিন সম্পকে লোক মুখে অনেক গল্প শোনা যায়। তেমনি এক ঘটনা ঘটে যশোরে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে সাজিদা খাতুন নামের এক নারীর মাথার টিউমার অপারেশন করেন জিনরা।ঐ নারী ও তার পরিবার ঘোষণা দেন জিন দিয়ে সকল ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হয়।

গত শুক্রবার রাতে যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা কালিয়ানি গ্রামের এ ঘটনা ঘটে বলে প্রচার করা হয়।ওই নারীর মাথায় ব্যান্ডেজ লাগানো হয়েছে। তবে এটিকে টাকা কামানোর নতুন ফন্দি বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা।সাজিদা খাতুন কালিনি গ্রামের মৃত আব্দুল সর্দারের মেয়ে। তাকে কলারোয়ার জহুরুল ইসলামের সঙ্গে কয়েক বছর আগে বিয়ে দেয়া হয়।

সাজিদার মা ফিরোজা বে গমের দাবি, তিন বছর ধরে তার মেয়ের মাথায় জ্বালা-যন্ত্রণা করছিল। ওষুধ খেয়ে ভালো হচ্ছিল না। মেয়ের মাথায় যে টিউমার হয়েছে তার কোনো ডাক্তারি রিপোর্ট নেই। জিনেরা বলেছে মাথার ভেতরে টিউমার অপারেশন না করলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেয়ের মতামতের ভিত্তিতে জিনেরা টিউমার অপারেশন করেছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত অন্ধকার ঘরে চলে অপারেশনের কাজ। অপারেশনের সময় যন্ত্রপাতির শব্দ আমিও শুনেছি।

ভয় পাব বলে রক্ত ও টিউমার আমাদের দেখানো হয়নি। তবে রক্তমাখা ব্লেড ও তুলা দেখেছি।সাজিদা খাতুন বলেন, আমি এখন বাপের বাড়িতে অবস্থান করছি। জিনেরা অপরেশন করার পর থেকে আমার মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। ছবি তোলা যাবে না। জিনদের বারণ আছে। অপারেশনের পরে এখন সুস্থতাবোধ করছি।সাজিদার দাবি, জিনেরা আমাকে রোগী দেখতে বলেছে। ৭-৮ বছর ধরে অামার সঙ্গে জিন রয়েছে। এখন জিনের মাধ্যমে নিয়মিত রোগী দেখব আমি।

সাজিদার পাশের বাড়ির বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, কলারোয়ায় থানা পুলিশের চাপ থাকায় স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাপের বাড়িতে রোগী দেখবে। তবে জিনের বিষয়টি সত্য কি-না জানি না।বাগআঁচড়া সাকিসিরিব মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. মমতাজ মজিদ বলেন, ধর্মমতে জিনের অস্তিত্ব আছে ঠিকই। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে জিনদের অপারেশনের বিষয়টি হাস্যকর।

তিন বছর ধরে তার মেয়ের মাথায় জ্বালা-যন্ত্রণা করছিল ওষুধ খাইয়ে কোনো লাভ হয় নাই।জিনেরা বলেছে মাথার ভেতরে টিউমার অপারেশন না করলে ক্যানসার হতে পারে। মেয়ের মতামতের ভিত্তিতে জিনেরা টিউমার অপারেশন করে।