রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ অগুনিত

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু জানা যায়। আহত সংক্ষা অগুনিত বলাহয়। মঙ্গলবার সকালে নানিয়ারচর উপজেলার বড়কুল ও ধর্মচান গ্রামের পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ে সেখানেই এ ঘটনা ঘটে।

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৮ জনে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখেঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার সকালে নানিয়ারচর উপজেলার বড়কুল ও ধর্মচান গ্রামের পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ে। এসময় মাটি চাপা পড়ে পাহাড়ের পাদদেশ থাকা বাড়িঘর। এপর্যন্ত বড়কুল থেকে ৪ জন এবং ধর্মচান থেকে ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে গ্রামবাসী। উদ্ধার কাজ চালাতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সাভিসের কর্মীরা। মাটি চাপাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে স্থানীয়রা সহযোগিতা করছে।

নানিয়ারচর থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেছেন, `আমরা পাহাড় ধসের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। সেখানে না যাওয়া পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে বিছু বলতে পারবো না।`

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নানিয়ারচরের বড়িঘাট ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এবং সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এদিকে কক্সবাজারে পাড়ার ধসে আরও একজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে।

নানিয়ারচর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা জানান, বড়পুল পাড়ায় ৪ জন, ধর্মচরণ কার্বারিপাড়ায় ৪ জনসহ মোট ৮ জন নিহত হয়েছেন। হাতিমারায় নিখোঁজ রয়েছেন ৫ জন।
নিহত মা-ছেলে হলেন ৩নং বুড়ঘাট ইউনিয়নের ধরমপাশা কার্বারি পাড়ার স্মৃতি চাকমা (২৩) ও তার ছেলে আয়ুব দেওয়ান। নিখোঁজরা হলেন ১ সাবেক্ষং ইউনিয়নের বড়কূল পাড়ার মহিলা মেম্বারের ছেলে রোমেন চাকমা (১৪), ২নং নানিয়ারচর ইউনিয়নের বড়কূল পাড়ার সুরেন্দু চাকমা (৫৫), রাজ্যদেবী চাকমা (৫০) ও সোনালী চাকমা (১৩)।

জানা গেছে, সোমবার ভোর রাতে বুড়িঘাট ইউনিয়নের ধরমপাশা কার্বারি পাড়ার একটি পরিবার মাটিচাপা পড়ে। এতে স্মৃতি চাকমা ও তার ছেলে আয়ুব চাকমা মারা যান। সকালে ওই পরিবারের ফুলজীবী চাকমা ও ইতি দেওয়ান নামে আরও দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। তবে পৃথক ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

নানিয়ারচর উপজেলার চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে ভারি বৃষ্টিতে মাটিচাপা পড়ে বুড়িঘাট ইউনিয়নে দুইজন মারা গেছে। এছাড়া সাবেক্ষং ও নানিয়ারচর ইউনিয়নে আরও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে।

নানিয়ারচরের বড়িঘাট ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এবং সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।নিহত মা-ছেলে হলেন ৩নং বুড়ঘাট ইউনিয়নের ধরমপাশা কার্বারি পাড়ার স্মৃতি চাকমা। সেখানে উদ্ধার কাজ চালাতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সাভিসের কর্মীরা।