কাঁটা দিয়েই কাঁটা তু্লে নিলো বাংলাদেশের বাঘিনিরা!

ইতিহাস গড়ে এশিয়া কাপ জিতেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। গত রোববার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ফাইনালে সালমা-রুমানাদের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ভারত। ছয় বারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ট্রফি ঘরে তোলে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের এই জয়ের পেছনে অন্যতম ভূমিকা এক ভারতীয় নারীর। তিনি হলেন, জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের কোচ অঞ্জু জৈন।

গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটি অবশ্যই ভুলে যেতে চাইবে টাইগ্রেসরা। ৫ ম্যাচের ওয়ানডে আর ৩ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফেরার পর কোচ ডেভিড চ্যাপেলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ায়নি বিসিবি। তার জায়গায় দায়িত্ব দেয়া হয় অঞ্জু জৈনকে। ২১ মে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ নরী দলের দায়িত্ব নেন অঞ্জু। এশিয়া কাপই ছিল তার প্রথম মিশন। যেখানে সবাইকে চমকে দেয় বাংলাদেশ।

Loading...

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বলার মতো এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সাফল্য। শারমিন সুলতানা, আয়েশা রহমান, সালমা, জাহানারা, রুমানা আহমেদের এমন সাফল্যের রসায়ন কী?

ভারতীয় দলের প্রাক্তন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অঞ্জু জৈন ৮টি টেস্ট এবং ৬৫টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে কীভাবে এল এই সাফল্য? সংবাদমাধ্যমকে অঞ্জু জৈন বলেন, ‘বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পরের কাজটা ছিল দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মতো। দল কিছুটা খারাপ অবস্থার মধ্যে ছিল। আমি কেবল তাদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেছি মাত্র।’

‘এটা দল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য বড় একটা বিষয়। দল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পর আমি প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করেছি।’

‘এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তবে আমি মেয়েদের কৃতিত্ব দিতে চাই। কারণ, যে পয়েন্টগুলোর আমি বের করেছি, সেগুলো তারা দারুণভাবে মাঠে করে দেখিয়েছে।’

বাংলাদেশের কোচ হওয়ার আগে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলেরও কোচিং করিয়েছেন দিল্লির মেয়ে অঞ্জু। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের কোচ ছিলেন তিনি। তাই ভারতীয় দলের সঙ্গে তার চেনাপরিচয় বহুদিনের। এতদিনের সম্পর্কের কারণে ভারতের দুর্বলতাগুলোও তার অজানা নয়। হয়তো সেই সুবিধাই কাজে লাগাতে পেরেছেন অঞ্জু। এর আগে ভারতের বিপক্ষে কখনো জয় না পাওয়া বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে তাদের বিপক্ষে জিতেছে দুই বার।

Loading...