মাথায় ধানের বোঝা থেকে এশিয়া জয় করা শামীমার গল্প

মাঠ থেকে ধান কেটে মাথায় করে বাড়ি আনা মাগুরার সংগ্রামী মেয়ে শামীমা এখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গর্বিত সদস্য। এশিয়া কাপ জয় করে ফেরা শামীমার ছোট্ট বাড়িতে যেন আনন্দের হাট বসেছে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শামীমাকে একনজর দেখতে।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গ্রামের কমলাপুরে কৃষক সোলায়মান শেখ ও নূরজাহান বেগমের তৃতীয় কন্যা শামীমাকে ঘিরে তার বাড়ির মানুষের যেমন উচ্ছ্বাস তেমনি আগ্রহের শেষ নেই গ্রামবাসীরও। যে শামীমাকে দেখা যেত ধানক্ষেতে অথবা স্কুলমাঠে খেলতে, তাকে আজ টিভির পর্দায় এশিয়া কাপের ট্রফি হাতে দেখে আনন্দের শেষ নেই গ্রামবাসীর।

নিজ বাড়িতে বসে আলাপকালে শামীমার বাবা সোলায়মান শেখ বলেন, ‘সারা জীবন অন্যের জমি চাষ করে খুব কষ্ট করে পাঁচ ছেলে মেয়েকে মানুষ করেছি। তবে এর মধ্যে শামীমা ব্যতিক্রম। ছোটবেলা থেকে ও বাড়ির সব কাজ থেকে শুরু করে মাঠে ধান কাটা পর্যন্ত নিজের হাতে করে। এমনকি ধান মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এর মাঝেও সে পড়া ও খেলা দুটোই চালিয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে শিক্ষা লোন নিয়ে সে ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স করেছে।’

মা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে ওর যেমন পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ খেলাধুলার প্রতিও ছিল সমান আগ্রহ। আমরা ওকে ঠিকমত দেখতে পারিনি অভাবের কারণে তারপরও ও নিজের স্থান নিজেই করে নিয়েছে।’

শামীমার স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল জীবন থেকেই ও খুব সুশৃঙ্খল একজন ছাত্রী। হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেও সে কখনও দমে যায়নি। আমার বিশ্বাস ছিল একদিন শামীমা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।’

প্রতিবেশী কিশোর মেহরাব বলেন, ‘আপু আমাদের খুব ভালোবাসেন। আমাদের সঙ্গেই ক্রিকেট খেলেন। ঈদের পরদিন আপুর ব্যবস্থাপনায় একটা ম্যাচ হয় যেখনে আমরা সবাই খেলি। এবার খুব আগ্রহ নিয়ে বসে আছি ওই দিনের জন্য।’

ঊল্লেখ্য, সম্প্রতি এশিয়া কাপ জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার ও উইকেট কিপার শামীমা আগামী ১৪ জুন নিজ গ্রামে ফিরবেন।