সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ৪ হাজার কোটি টাকা জমা আছে

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ৪ হাজার ৬৯ কোটি টাকা জমা আছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনথেকে এই তথ্য জানা গেছে। বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

তবে টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ বাড়লেও গত বছর তা কমেছে। গত বছরের আমানতের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে দেড় হাজার কোটি টাকা কমেছে।

Loading...

ধনীদের অর্থ গোপনে গচ্ছিত রাখার জন্য বহুযুগের খ্যাতি সুইজারল্যান্ডের। গ্রাহকের নাম-পরিচয় গোপন রাখতে কঠোর দেশটির ব্যাংকিং খাত। যে কারণে অবৈধ আয় ও কর ফাঁকি দিয়ে জমানো টাকা রাখা হয় সুইস ব্যাংকে।

সুনির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও কয়েক বছর ধরে দেশভিত্তিক আমানতের পরিমাণ প্রকাশ করে আসছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ এর ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। আগের বছর এ অঙ্ক ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ ফ্রাঁ বা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছে দেড় হাজার কোটি টাকা। সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, কোন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব গোপন কেরে অর্থ জমা রাখলে ওই টাকা এ হিসাবে অন্তর্ভূক্ত নয়। গচ্ছিত রাখা স্বর্ণ বা মূল্যবান সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমানও হিসাব করা হয়নি প্রতিবেদনে।

এ পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া যায় তাতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর বাংলাদেশিদের আমানত হু হু করে বেড়েছে সুইস ব্যাংকে। ২০০২ সালের মাত্র ৩ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁ আমানত দেড় দশকে বাড়ে, ২২ গুণ।

কেবল বাংলাদেশ নয়, সামগ্রিকভাবেও ২০১৭ সালে আমানত অনেক কমেছে সুইস ব্যাংকগুলোতে।

উল্লেখ, মূলত অবৈধ আয় ও কর ফাঁকি দিয়ে জমানো টাকা জমা রাখা হয় সুইস ব্যাংকে। গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তার কারণেই এ ধরণের অর্থের মালিকরা সুইস ব্যাংকগুলোকে বেছে নেয়। তবে সন্ত্রাসী অর্থায়নসহ নানা অপরাধ কমানোর স্বার্থে আমানতকারীদের তথ্য বিনিময়ে গত কয়েক বছর ধরে সুইজারল্যান্ডকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। এর প্রক্ষিতে দেশটি তার অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে। এ কারণে বিদেশিদের কাছে সুইস ব্যাংকের আকর্ষণও একটু করে কমে আসছে। আর এর প্রভাবে ২০১৭ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আমানত কিছুটা কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডে গোপনীয়তা কমতে থাকায় ধননীদের অনেকেই এখন অবৈধ টাকা জমা রাখার জন্য ঝুঁকছেন লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, পানামা ও বারমুডার মতো ট্যাক্স হ্যাভেনের দিকে।

Loading...