ইসলামের দৃষ্টিতে আসলে বন্ধু হবে কে?

চলার পথে বন্ধুর প্রয়োজন হয়। সামাজিক সম্পর্ক তৈরিতে বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের কর্ম, চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয় বন্ধুত্বের কল্যাণে। এ কারণে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে এবং কাদের বর্জন করতে হবে এ ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা আমাদের পথ দেখিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে মহান সৃষ্টিকর্তা বলেছেন, আর ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহতায়ালা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী। -সূরা আত তওবা: ৭১

এই প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসলো, তো আল্লাহর জন্যই ভালোবাসলো, কাউকে ঘৃণা করলো তো আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করলো, কাউকে কিছু দিলো তো আল্লাহর জন্যই দিল এবং কাউকে দেয়া বন্ধ করলো তো আল্লাহর জন্যই দেয়া বন্ধ করলো, তবে সে তার ঈমানকে পূর্ণ করলো। –মিশকাত শরিফ

একজন ভালো বন্ধুর কি কি গুণ থাকা দরকার এ সম্পর্কে ইমাম গাজ্জালি রহ. বলেন, যার মধ্যে তিনটি গুণ আছে তাকে বন্ধু বানাতে হবে।

গুণগুলো হলো- ১. বন্ধুকে হতে হবে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ; ২. বন্ধুর চরিত্র হতে হবে সুন্দর ও মাধুর্যময়; ৩. বন্ধুকে হতে হবে নেককার ও পূন্যবান। এই তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে তাকেই বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা যাবে।

আবার কাদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা যাবে না এ সম্পর্কে ইমাম জাফর সাদিক রা. বলেন, পাঁচ ব্যক্তিকে বন্ধু বানানো যাবে না। তারা হলো- ১. মিথ্যাবাদী; ২. নির্বোধ; ৩. কৃপণ; ৪. কাপুরুষ; ৫. ফাসেক। সুতরাং আমাদের বন্ধুত্ব করতে হবে এমন লোকদের সাথে যাদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্বরণ হয়, পরকালের কথা স্বরণ হয় এবং জান্নাতের পথ সুগম হয়।