নরসিংদীতে দশ হাজার টাকার লোভে খুন করলেন সাত বছরের শিশুকে

এই ঘটনাটি ঘটে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার হাসিমপুর গ্রামে। সাত বছরের শিশুকে খুন করল মাত্র দশ হাজার টাকার লোভে। প্রবাসী সুজন মিয়া তার ছেলের নামে ডিপোজিট করে। এই টাকার লোভে পড়ে তাঁর শিশুপুত্র মামুনকে অপহরণ করে ।

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ক্ষোভে সাত বছরের মামুন মিয়াকে দুই দিন অভুক্ত রেখে মুখে কচটেপ পেচিয়ে ও গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই পরিকল্পনায় ছিলেন সুজন মিয়ার জেঠাতো ভাই জয়নাল মাস্টার। তিনি তাঁর ছেলে আরমান, নাতি জিদান আর ভাড়া করা সন্ত্রাসী নাসির এর মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন।

আর হত্যাকাণ্ড বাস্তাবায়ন করেত কিলারের সাথে দশ হাজার টাকা রফাদখা হয়। আজ দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন।পুলিশ জানায়, রায়পুরা উপজেলার হাসিমপুর এলাকার সুজন মিয়ার ছোট ছেলে মামুন মিয়া গত ২০ জুন বিকেলে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

পরে দফায় দফায় বিভিন্ন কৌশলে তার পরিবারের নিকট মুক্তিপণ বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। এরই মধ্যে নিখোঁজের তিনদিন পর প্রতিবেশি জয়নাল মাস্টারের তিন তলা বাড়ির ছাদ থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মামুনের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় মামলা করেন।

পরে মামলাটির তদন্ত ভার থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়। হত্যায় জড়িত সন্দেহে প্রযুক্তির সহায়তায় জয়নাল মাস্টার, তার ছেলে আরমানকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের দেয়া ত্যথ্যের ভিত্তিতে রাজনগর এলাকার নাসির মিয়াকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাসির হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। একই সাথে হত্যার নেপথ্যের বিষয়ে বিবরণ দেন।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউর রহমান, গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল গাফফার পিপিএম বলেন, ‘অভিযুক্ত জয়নাল মাস্টার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। সে মূলত কোনো এজেন্সির হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করে। নিহত মামুনের বাবা সুজন মিয়াকে জয়নাল মাস্টারই সৌদি আরবে পাঠিয়েছিল। এমনকি সুজন মিয়াও বিদেশ থেকে সব টাকা-পয়সা সুজন মিয়ার মাধ্যমেই দেশে পাঠিয়েছে।

সুজন মিয়া দেশে ফিরে সব টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করে রাখে। সেই টাকার লোভেই নিজের ছেলে আরমান এবং নাতি নরসিংদী মডেল কলেজের শিক্ষার্থী জিদান ও লিমনকে দিয়ে নাসিরকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করে অপহরণ করা হয় শিশু মামুনকে। নাসিরের মাধ্যমে সুজনের ফোনে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।এসআই গাফফার জানান, টাকা না পেয়ে জয়নাল মাস্টারের পরিকল্পনামাফিক শিশু মামুনকে দুই দিন অভুক্ত রেখে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে পরিকল্পনামাফিক নিজের বাড়ির ছাদে লাশ এনে ফেলে রাখেন জয়নাল, যাতে কেউ তাঁকে সন্দেহ করতে না পারে।তদন্ত কর্মকর্তা জানান, নাসিরের দেওয়া তথ্যে জয়নাল মাস্টার, আরমান ও নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। তবে জিদান ও লিমন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।