অবশেষে ২৩০ বছর পর বালিশ পাচ্ছেন কারাবন্দিরা

দেশের কারাগারগুলোতে ২৩০ বছর পর প্রথমবারের মতো বন্দিদের আরামে ঘুমানোসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় একটি করে কাভারযুক্ত বালিশ প্রদান করবে কারা কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকে বন্দিদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ বালিশ সরবরাহ করা হবে বলে আশাবাদী কারা কর্তৃপক্ষ।দেশে ৬৮টি কারাগারে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় আশি হাজারের কাছাকাছি।

বর্তমানে একমাত্র ডিভিশনপ্রাপ্ত ও হাসপাতালে ভর্তি বন্দিরা বালিশ ও মশারি ব্যবহারের সুযোগ পান। আর সাধারণ বন্দিদের জন্য সম্বল তিনটি কম্বল। একটি বিছানো হয়, অন্যটি ভাঁজ করে বালিশের মতো ব্যবহার করা হয় আর অন্যটি গায়ে দেওয়ার জন্য। তবে এ উদ্যোগের ফলে কারাগারে আটক সকল শ্রেণির বন্দিই এখন থেকে বালিশ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।উল্লেখ্য, ১৭৮৮ সালে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড চালুর মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে) যাত্রা শুরু। ২০১৬ সালে পুরনো ঢাকার এ কারাগারটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে অনেক আগেই বন্দিদের বালিশ প্রদানসহ আরো কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, বন্দিদের স্বাস্থ্যসম্মত আরামদায়ক ঘুমের কথা ভেবে আমরা বন্দির ঘুমানোর জন্য কম্বলের বর্তমান পদ্ধতির পরিবর্তে আরামদায়ক কাভারযুক্ত বালিশ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আমরা ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সারাদেশের প্রায় ৮০ হাজার বন্দিকে একটি করে বালিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যেই আমরা প্রায় ৪৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় ১৬ হাজার ৪শ ২০ টি বালিশ ক্রয় করেছি। পর্যায়ক্রমে সকল কারাগারের বন্দিদের জন্য আরো প্রায় ৫০ হাজার বালিশ ক্রয়ের প্রখ্রিয়া চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল বন্দিকেই বালিশ প্রদান করা হবে।