‘৩০০ ম্যাচ খেলেছি, আমাকে কি পাগল মনে হয়?’ মেজাজ হারালেন ধোনি

তিনি সন্তানের কাছে যোগ্য পিতা। স্ত্রী কাছে রোমান্টিক স্বামী। ভারতীয় ক্রিকেটে তিনি ক্যাপ্টেন কুল। ভারতীয় ক্রিকেটে ইস্পাতকঠিন অথচ হিমশীতল স্নায়ুর অধিকারী যদি কেউ হন, তবে তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি।সচরাচর মাঠে মেজাজ হারান না। জয়ে বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন না। পরাজয়ে ভেঙে পড়েন না। বরং মাঠে ফিরে এসে প্রত্যাঘাত করেন। এই ধোনিও কিন্তু রেগে যেতে পারেন। এবং রেগে গিয়েওছিলেন। সম্প্রতি এরকম একটা ঘটনার কথাই ফাঁস করলেন ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদব।

ঘটনা আজকের নয়। গত বছর ইন্দোরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলছিল ভারত। সেবার কোহলির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব করছিলেন রোহিত শর্মা। ধোনি বহুদিন হল অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন।তবে দল যদি কঠিন বিপদে পড়ে যায়, তখন কঠিন মুহুর্তে সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় সাবেক কাপ্তানকে । এমনকী কোহলিকেও দেখা যায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ধোনির দিকেই তাকিয়ে থাকেন। কখনো তো কোহলির আগেই থার্ড আম্পায়ার কলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ধোনি। দেশকে বিশ্বকাপ দেওয়া অধিনায়ককে এভাবেই সম্মান জানায় ভারতীয় দল।

Loading...

তো ইন্দোরে ওই ম্যাচ চলাকালীন মার খাচ্ছিলেন কুলদীপ। বলে বলে ছয় মারছিল ব্যাটসম্যান। কুলদীপ অসহায়ভাবে ধোনির দিকেই তাকাচ্ছিলেন। ধোনি তাকে সাহস দিয়ে বলেন, কোনো ব্যাপার নয়, বল আর একটু ফুল লেংথে ফেললেই হবে। পরের ওভারে সেই বল করলে আবার রিভার্স সুইপে চার মারেন ব্যাটসম্যান। কুলদীপ তো আতান্তরে পড়ে যান।সেই সময় ধোনি বলেন, ফিল্ডিংটা অন্যরকম করতে। বলেন, কভার তুলে দিয়ে একজন ফিল্ডারকে ডিপে রাখতে। আর পয়েন্টকে একটু উপরে তুলে আনতে। তা শুনে কুলদীপ বলেন, যা ফিল্ডিং আছে, তাই-ই ঠিক আছে।

তিনি স্বচ্ছন্দে বল করতে পারবেন। এতেই মেজাজ হারান ধোনি। বলেন, ৩০০টা ম্যাচ খেলছি, আমাকে কি পাগল মনে হয়? অর্থাৎ এমনি এমনি যে ফিল্ডিং পরিবর্তনের কথা বলছেন না, তা বুঝিয়ে দেন। যাই হোক ধোনির ইচ্ছেমতো সাজানো হয় ফিল্ড। এবং তারপর উইকেটও পান কুলদীপ।আজ ভারতীয় বোলিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ এই স্পিনার। তবে এই সাফল্যের দিনেও ধোনির শাসন ভোলেননি তিনি। সমক্ষে বলতেও কসুর করেন না। আসলে কথা বলে, শাসন করা তাহার সাজে সোহাগ করে যে সবার মাঝে। সমস্ত তরুণ খেলোয়াড়রা আজও যে ধোনিকে সম্মান করেন তা এই কারণেই।

Loading...