চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে আম, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গত দেড় যুগের মধ্যে এবছর সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে আম। ক্রেতা না থাকায় আমের বাজারে এই ধস বলে জানান আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।জানা গেছে, ফরমালিনের অজুহাতে আম ধ্বংস এবং ফরমালিন ভিতির কারণে আমের বিক্রি কমে যাওয়া, আম পাড়ার সময় বেধে দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে গত চার বছর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের ব্যবসায় মন্দা চলছে।

এদিকে গত দেড় যুগের মধ্যে এবছর আমের দাম সবচেয়ে কম হওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার আম চাষি ও ব্যবসায়ী। প্রাকৃতিক সুর্যোগ ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে জেলার আম ব্যবসায়ীদের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছে আম ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে প্রায় দেড় মাস আগে উঠেছে আম। অথচ এখনো বাজার তেমন জমে উঠেনি। এরইমধ্যে শেষ হয়ে গেছে গুটি, বোম্বাই, ল্যাংড়া, গোপালভোগ ও ক্ষিরসাপাত জাতের আম। এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, আম্রপালি ও ফজলি জাতের আম।

ব্যবসায়ীরা জানান, আর কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারে উঠবে আশ্বিনা জাতের আম। কিন্তু বাজারের মন্দাভাব কিছুতেই কাটছেনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অফিস জানায়, জেলায় এবার প্রায় ২৯ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আম গাছের পরিমাণ প্রায় ২২ লাখ। জেলায় প্রায় আড়াইশ জাতের আম চাষ হয়। এরমধ্যে গোপালভোগ, খিরসাপাত (হিমসাগর), ল্যাংড়া, বোম্বাই খিরসা, ফজলী, আম্রপালি, আশ্বিনা জাতের আমই বেশি। এবছর আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আড়াই লাখ মেট্রিক টন।

এবছর মৌসুমের শুরু থেকেই কয়েক দফা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন আম চাষিরা। শুরুতে পর্যাপ্ত আমের মুকুল আসলেও বৈশাখ মাসে কয়েকদফা শিলাবৃষ্টিতে মোট উৎপাদনের ৪০ শতাংশ আম ঝরে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত যে পরিমাণ আম ছিল সঠিক মূল্য পেলে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারতেন এমন আশা ছিলো আম চাষিদের। কিন্তু সে আশা পূরণ হলো না তাদের। বাজারে পর্যাপ্ত আম থাকলেও নেই ক্রেতা। অতিরিক্ত গরমের কারণে পেকে যাচ্ছে আম। তাই বাধ্য হয়ে গাছ থেকে আম পেড়ে কম দামেই আম বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান দুই আম বাজার শিবগঞ্জের কানসাট ও শহরের পুরাতন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আমের যথেষ্ট যোগান রয়েছে। কিন্তু ক্রেতার অভাবে আম বিক্রি হচ্ছে কম। বর্তমানে ফজলি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা, বোম্বাই ২২০০ টাকা, আম্রপলি ২২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের শুরুর দিকে গোপাল ভোগ ও ক্ষিরসাপাত বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে। অথচ গত বছর ক্ষিরসাপাত সাড়ে তিন হাজার টাকা, ল্যাংড়া ২৫০০ টাকা, বোম্বাই ২৫০০ টাকা, আম্রপলি ৩০০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছিলো।গতবছরের চেয়ে কমদামে আম বিক্রি হওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা।

এরই মধ্যে পুঁজি হারিয়ে ফেলেছেন কয়েক হাজার আম চাষি। বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিওসার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আমের দাম কম হওয়ায় এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ও চাষি পুঁজি হারিয়ে ফেলেছেন। এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।