একদিনে দুই ভাইয়ের লাশের ভার বইতে হল: পলক

একদিনে দুই ভাইয়ের লাশের ভার বইতে হল!

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর থেকে প্রিয়ন্ত, টিটু, মিঠু, কলিনের সাথে সার্বক্ষণিক কথা হচ্ছিল। হাসপাতালের ডিরেক্টর নজু ভাইকে ভর্তি করার সময় থেকেই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছিলেন।

Loading...

তারপর কিবরিয়া ভাইকেও নিতে হল একই হাসপাতালে। ভোরবেলা যখন নজু ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সিংড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখনও কিবরিয়া ভাই ছিলেন সিসিইউ তে। মিঠু সিংড়ায় নজু ভাইয়ের জানাজা, দাফনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। টিটু আর কলিন রাজশাহীতে কিবরিয়া ভাইয়ের সাথে।

এক দিনেই দুই ভাইকে চিরদিনের জন্য হারালেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে শোকাহত তিনি।

বুধবার রাতে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে পর পর দুই ভাইকে হারানোর মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, খালাতেই ভাই হলেও তারা আপন ভাইদের চেয়ে কম ছিলেন না। জুনাইদ আহমেদ পলকের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

নাটোর পৌঁছানোর আগেই প্রথমে টিটু, একটু পরেই কলিনের ফোনকল- “চাচা, আব্বু নাই!” আমার নিজেরই বাকরুদ্ধ হয়ে আসছিল। ওদেরকে তবু সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা। সিংড়া এসে সরাসরি নজু ভাইয়ের বাড়িতে।

সে যাত্রায় মহান আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় আবার সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন আমাদের মাঝে। এবারে আর রক্ষা হল না। নজু ভাই দিব্যি সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। কিছু বুঝে উঠার সময়ও দিলেন না। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ ভাইয়ের লাশ আমার কাঁধেই ভারী হয়ে গেল। তাদের নিষ্পাপ সন্তানদের কি সান্ত্বনা দিব?

প্রিয়ন্তর নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকানো যায় না। বাদ জোহর নজু ভাইয়ের জানাজা সম্পন্ন করলাম। বালুয়াবাসুয়া কবরস্থানে দাফন করা হল নজু ভাইকে। নিজের ছোট ছেলেকে চিরবিদায় জানিয়ে বড় ছেলের লাশের অপেক্ষায় আমার খালা। কিবরিয়া ভাইয়ের এর আগেও স্ট্রোক হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বুধবার রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর খালাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। দুই ভাই হলেন- নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের চাঁদপুর মহল্লার আব্দুর রহিমের ছেলে আবুল কালাম আজাদ ওরফে নজু (৫০) ও গোলাম কিবরিয়া (৬২)।

খালাতো ভাই হলেও আমাদের সম্পর্ক আপন ভাইয়ের থেকে কিছু কম ছিল না। ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক জীবনে কিবরিয়া ভাই ছিলেন আমার অন্যতম একজন অভিভাবক। নজু ভাই রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। কত স্মৃতি, কত সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি। সব স্মৃতি পেছনে ফেলে দুইজনই আজ চিরবিদায় নিলেন।

মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার ভাইদের জান্নাতবাসী করেন। পরিবারের সবাইকে যেন এই শোক সইবার শক্তি দেন। সবাই কিবরিয়া ভাই এবং নজু ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।

Loading...