এবার ঐতিহ্যবাহী নৌকায় করে ইটের হাট:ব্রিটিশ যুগ থেকে ইট কিনতে আসেন হাজারো ক্রেতা

আজ শুক্রবার ইটের হাটে সরেজমিনে হাটের মাঝি, বিক্রেতা, ক্রেতা,শ্রমীকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,-‘সেই ব্রিটিশ আমল থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় নিয়মিতভাবে প্রতি রবিবার নৌকায় ভরা ইট বিক্রি করতে আসে দেশের নানা এলাকা থেকে।

এরমধ্যে রয়েছে নরসিংদী, না.গঞ্জ,নবীনগরের বাইশমৌজা,কুমিল্লার চান্দিনা,মুরাদনগর,টঙ্গী,মুন্সিগঞ্জ প্রভৃতি এলাকাগুলো থেকে। এখানেই মাঝি-মাল্লাদের ঘড়-বাড়ী-বিছনাপত্র,নিজেরা নিজেদের রান্না-বান্না সবকিছুই ইট বোঝাই নৌকাগুলোকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে।ইটের হাটের ক্রেতারা আসেন বহু দূর-দূরান্ত থেকে।তাদের মধ্যে স্থানীয়

রইদ,মেঘ আর বান-তুফানের মইধ্যেও আমরা নৌকায় কইরা ইট লইয়া বাঞ্ছারামপুরও বেঁচবার আহি।আমাগো বাপ-দাদারাও এহানে ব্যবসা কইরা আমগোরে বড় করছে।

প্রতি রবিবার উপজেলার সর্ববৃহত সাপ্তাহিক হাটকে কেন্দ্র করেই তাদের ইট বিক্রি করতে আসে ২দিন আগে।বৃহত আকারের ৪০ ফিট বাই ১৫ফিট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের বিশেষ আকৃতির এই নৌকো গুলোর কোন-কোনটির ধারন ক্ষমতা প্রায় ১০,১৫,২০,২৫ হাজার ইটসহ ১০ থেকে ১৫ জন মাঝি-মাল্লা ও ইটবোঝা শ্রমীক।

ঠিকাদার,প্রবাসী,নবীনগর,হোমনা,আড়াইহজার প্রভৃতি এলাকা থেকে ইট কিনতে আসেন।কেউ খালি নৌকা নিয়ে আসেন, কেউবা নসিমন,ট্রলি আবার যারা কাছে তারা চুক্তিভিত্তিতে মাথায় করে ইট নির্দিষ্ট স্থানে বহন করানো হয়।

এহানকার মোকামের ব্যবসা বহু বছরের,ব্যবসাও হয় ভালা ’’-অকথা গুলো বলছিলেন নারায়নগঞ্জ জেলার নিতাইগঞ্জ থেকে নৌকায় করে ইট বিক্রি করতে আসা সিদ্দিকুর রহমান।

তার মতো শতাধিক ভ্রাম্যমান ইট বিক্রেতারা নৌকায় করে আজ এই জেলায়-কাল অন্য এলাকায় ছুটে বেড়ায়। শুক্রবার আসলেই ভ্রাম্যমান শতাধিক ইট বিক্রেতাদের ‘ইটের হাট’ বসে বাঞ্ছারামপুর সদর উপজেলার চক বাজারের ঢোলভাঙ্গা নদীর পাড়ে।