এবার খুবি শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার, সড়কে লাইসেন্সবিহীন সকল যানবাহন বন্ধ ও খুলনা শহরে ইজিবাইক চলাচলের জন্য আলাদা লেন চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দাবি না মানলে পুনরায় আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।সোমবার (৬ আগস্ট) দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবির কথা জানান শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার দেখা যায়।বেলা ১১টা দিকে খুবি’র হাদী চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গেলে প্রশাসন ও পুলিশ ফটক বন্ধ করে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে প্রশাসন গেট খুলে দিতে বাধ্য হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এতে খুলনা-ঢাকা, খুলনা-সাতক্ষীরা, খুলনা-যশোর মহাসড়কে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। খুলনার জিরোপয়েন্ট হয়ে সাড়ে ১২টার দিকে আবারো ক্যাম্পাসে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীরা এ সময় নগরীর গল্লামারী থেকে জিরো পয়েন্ট মহাসড়কে ভারি যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও লাইসেন্স ছাড়া অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে পড়ে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীম (১৬)।ওই ঘটনার দিন থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী।

রাজধানী ছাড়াও দেশের কয়েকটি জেলায় এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।বুধবার (১ আগস্ট) গ্রেফতার করা হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের দুর্ঘটনা ঘটানো বাসের মালিক শাহাদৎ হোসেন ও চালক মাসুম বিল্লাহকে। বাতিল করা হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট ও নিবন্ধন।রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করছে তারা। এর মধ্যে বেশ কিছু যানবাহনের ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।