যশোর সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারায় ৩ ছাত্রী

দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোলের পর যশোর সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ১ম ও ২য় বর্ষের ১৫৯ জন ছাত্রী সেবিকার উপর অত্যাচার ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে ৩ ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে ১ম ও ২য় বর্ষের কোন ছাত্রীকে হোস্টেলের কক্ষ থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। হোস্টেলের খাবার সরবরাহ করা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাদের বাইরের খবারও কিনতে দেয়া হচ্ছে না। খাবারের টাকা জোর পূর্বক আদায় করার জন্য ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খবর শুনে সোমবার (৬ আগস্ট) ২য় বারের মতো নার্সিং ইনস্টিটিউটে যান যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু। কিন্তু তার কাছে অভিযোগ করতেও বাধা দেয়া হয়েছে ভুক্তভোগীদের।১ম ও ২য় বর্ষের ছাত্রীদের ভাষ্য, খাবারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে ৩য় বর্ষের কয়েকজন ছাত্রী। যে কারণে ওই বর্ষের অধিকাংশ ছাত্রী খাবারের টাকা দেয়না।তারা আরও জানান, হোস্টেল থেকে সারা বছর তাদের নিম্নমানের খাবার দেয়া হয়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষাবৃত্তির টাকা না আসা পর্যন্ত তারা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাবেন। এরপর থেকেই ৩য় বর্ষের ছাত্রীদের তাদের গাত্রদহ শুরু হয়েছে।

Loading...

১ম ও ২য় বর্ষের একাধিক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশনায় প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তি থেকে খাবার বাবদ ছাত্রী প্রতি ১২শ’ ৪০ টাকা করে কেটে নেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবার তাদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। গত ৬ মাসে তাদের মাত্র ৩ দিন মাছ খেতে দেয়া হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে জুন মাসের পর থেকে শিক্ষা বৃত্তির টাকা বন্ধ রয়েছে। যে কারণে খাবার সরবরাহ বাবদ প্রতি জনের কাছে ১২শ’ ৪০ টাকা দাবি করা হয়।

১ম ও ২য় বর্ষের ছাত্রীরা আরও জানান, এরই মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষাবৃত্তির টাকা না আসা পর্যন্ত তারা বাইরের খাবার কিনে খাবে। হোস্টেলের খাবার খাবেন না, টাকাও দেবেননা। এতে ৩য় বর্ষের ছাত্রীরা তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রোববার সন্ধ্যায় ৩য় বর্ষের লিমা ও সোনিয়া তাদের গালিগালাজ করে।এর প্রতিবাদ করলেই ৩য় বর্ষের ছাত্রীরা জোটবদ্ধ হয়ে তাদের সাথে হট্টগোলে লিপ্ত হয়। এসময় কক্ষে ঢুকে কয়েকটি বৈদ্যুতিক হিটারও ভাংচুর করাসহ মালামাল তছনছ করা হয়।

গোলযোগের খবর শুনে রাতেই সেখানে যান যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্প।কয়েকজন ছাত্রী জানান, দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোলের ৩য় বর্ষের ছাত্রীরা তাদের উপর অত্যাচার ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ৩ ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা হলো ১ম বর্ষের রুপালী, রিতু খাতুন ও খাইরুন নেছা। তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়া হয়।

তারা আরো জানান, বর্তমানে ১ম ও ২য় বর্ষের ছাত্রীদের মাঝে খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাইরের খাবারও কিনতে দিচ্ছে না। ফলে তারা রোববার রাত থেকে না খেয়ে সময় পার করছেন। দুইজন ছাত্রী জানায়, অত্যাচার ও নির্যাতনের খবর শুনে সোমবার সকালে নার্সিং ইনস্টিটউটে যান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু।কিন্তু তার কাছে অভিযোগ করতেও দেননি ৩য় বর্ষের ছাত্রীরা। কেননা পারলেই ৩য় বর্ষের ছাত্রীদের টাকা না দিয়ে খাবার খাওয়ার গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে অভিযোগ করতেও বাধা দেন তারা। বর্তমানে তাদের হোস্টেলের কক্ষ থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, দুই পক্ষের মধ্যে এখনো উত্তেজনা রয়েছে। যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। নার্সিং ইনস্টিটউটের ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্প জানিয়েছেন, উভয়কে ডেকে নিয়ে শান্ত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ৩য় বর্ষের ছাত্রীরাও খাবার বাবদ হোস্টেলে ন্যায্য টাকা দিয়ে থাকে। নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।তিনি জানান, শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ থাকলেও ৩য় বর্ষের ছাত্রীরা টাকা দিতে রাজি হয়েছেন।

আর খাবার বাবদ টাকা দেবে না বলে বেকে বসেছেন ১ম ও ২য় বর্ষের ছাত্রীরা। এই নিয়ে তাদের দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছে।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, সোমবার সকালে নার্সিং ইনস্টিটউটে গিয়ে কিছু অনিয়মের কথা জেনেছেন। মঙ্গলবার ১ম,২য় ও ৩য় বর্ষের ছাত্রীদের তার কার্যালয়ে ডাকা হবে। দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোলের মূল কারণ শোনা হবে।

সূএঃ বিডি২৪লাইভ

Loading...