ছাত্র আন্দোলনে ‘হেলমেট বাহিনী’, এ নিয়ে যা বললেন সেতুমন্ত্রী

ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিকে এসে হঠাৎ ‘হেলমেট বাহিনীর’ আবির্ভাব ও এর পেছনে ‘ছাত্রলীগের’ নাম আসা নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষমতাসীন দলের এ নেতা দাবি করেন, ‘ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা চলছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন কর্মীর চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। সেই আহত কর্মীকে তারা হাইজ্যাক (ছিনতাই) করলো ঘৃণ্য রাজনৈতিক উদ্দেশে। সেই কর্মীর চোখের অবস্থা খারাপ। আহত কর্মীর চোখের চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।’কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়েছে। এখনও তারা ভালো করে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। এ এলাকায় ছাত্রলীগের (ধানমন্ডি) কোন কমিটি ছিলো না।’

‘যারা আহত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই সাবেক ছাত্রনেতা, বিভিন্ন উপ-কমিটির সদস্য। তাদের মধ্যে ৪৬ জন আহত হয়েছে। আক্রান্ত হলাম আমরা কিন্তু এখন দেশে-বিদেশে সুপরিকল্পিতভাবে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। আমাদেরকে আক্রমণকারী চিহিৃত করে দলের এবং ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘কানাডার আদালতে প্রমাণিত সন্ত্রাসী দল বিএনপি তাদের চিহিৃত সন্ত্রাসীদের জন্য যে কলঙ্ক অর্জন করেছিল তা আজকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছে আওয়ামী লীগের উপর, আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর। আমরা এ ঘৃণ্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই।’

‘গতকাল আমি সাংবাদিকদের বলেছি, ছাত্রলীগের উপর অপবাদ আসছে,। আপনারা আমাকে তালিকা দিন। কারা কারা এতে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’‘শেখ হাসিনার সরকারের আমলে অন্যায় ও অপকর্ম করে কেউ রেহাই পায় না। ছাত্রলীগের কেউ যদি সাংবাদিক নির্যাতনে জড়িত থাকে তাহলে আমরা কোন অবস্থায় ছাড় দেব না।

এটা আমাদের নীতি এবং সিদ্ধান্ত।’সাংবাদিকেদেরকে তবে কারা মেরেছেন-জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘এ সময়ে যারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চান, তারা টার্গেট করেন সাংবাদিকদের। কারণ, সাংবাদিকদের টার্গেট করে ফায়দা তোলার চেষ্টা এ দেশে অনেকবার হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা হয়। আমাদের দেশেও আমরা তা বারবার লক্ষ্য করেছি।’সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চলমান আন্দোলন নিয়ে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা কবে হবে এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আটঘাট বেঁধে তদন্ত হচ্ছে।

যাতে ধরা পড়লে কেউ জাল ছিঁড়ে বের না হতে পারেন।’ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে মতান্তর থাকবে। কিন্তু সেই মতান্তর এখন মনান্তরের সীমা অতিক্রম করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। দেশের গণতন্ত্রের জন্য, দেশের ভবিষ্যতের জন্য এটি দুর্ভাগ্যজনক।’তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতার জন্য দেশ ধ্বংস করে যারা রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গে কী করে একটি ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে?’