মাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদলেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা!

ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে দুই দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১০ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী রিমান্ডের আদেশ দেন।চার দিনের রিমান্ড শেষে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম শুক্রবার নওশাবাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ড দেন।

গত ৪ আগস্ট রাতে উত্তরা থেকে নওশাবাকে আটক করেছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) একটি দল। আজ রিমান্ড শুনানিকালে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে নওশাবাকে। মাঝে-মধ্যে মাকে জড়িয়ে ধরেও কান্নায় ভেঙে পড়েন নওশাবা।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি তার নিজের মোবাইল ফোন থেকে নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে গত ৪ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ি হতে অত্যন্ত আবেদনময়ী কন্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন, জিগাতলায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে এক জনের চোখ উঠায়া ফেলছে আর ৪ জনকে মেরে ফেলছে।

ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ ওদের বাঁচান, প্লিজ। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা যে যেখানে আছেন কিছু একটা করেন।তার এই আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে দেশি বিদেশি সামাজিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। যা জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা তার এই প্রপাগান্ডার উৎস জানার জন্য ফোন করলে তিনি তার স্বপক্ষে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নাই।

তিনি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এবং জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য এইরূপ মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।নওশাবার পক্ষে তার আইনজীবী কাউসার আহম্মেদ, শ্যামল কান্তি সরকার ও প্রমুখ আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন।শুনাতি তারা বলেন, আসামিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে তিনি একজন দাগি আসামি।

তিনি ১০ বছর আগে থেকে শিশুদের নিজের কাছে এনে লালন-পালন করছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মানববন্ধন করেছেন। তিনি ১০ বছর যাবৎ সমাজসেবা মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ৬ বছরের একটি বাচ্চাও আছে। সব কিছু মিলিয়ে শিশুদের জন্য তার একটা সফট কর্ণার রয়েছে।আইনজীবীরা বলেন, সেদিন একটি ছেলের আবেদনে ইমোশনাল হয়ে আসামি ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন।

আসামি বর্তমানে অসুস্থ, ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না। আর জামিন না দিলে রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিতে পারেন।আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে কাজী নওশাবাকে দুই দিনের রিমান্ড দেন।