প্রধানমন্ত্রী হবার শুরুতেই হোঁচট খেলেন ইমরান খান

তৃতীয় দফায় পেছাল পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। শুক্রবার তেহরিকে ইনসাফের পরিষদ সদস্য ফয়সল জাভেদ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, আসছে ১৮ আগস্ট ইমরান খানের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। পূর্বে জানানো হয়েছিল ১১ আগস্ট ইমরান খান শপথ নেবেন। পরে তারিখ পিছিয়ে ১৪ আগস্ট শপথের দিন ঘোষণা করা হয় এবং ১৩ আগস্ট সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন বলে ঘোষণা করা হয়।

এদিকে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের দায়ে ইমরান খানকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া লিখিত ক্ষমা প্রার্থণার আবেদন করেছেন তিনি। যাতে গেল ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আইন ভাঙার কথা উল্লেখ ছিল। দুদিন আগে তেহরিকে ইনসাফ পার্টির চেয়ারম্যান ইমরান খানকে ক্ষমা চাইতে বলেছিল পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নির্বাচনের দিন ভোট দেয়ার সময় আড়ালে যাননি তিনি। প্রকাশ্যেই ভোট দিয়েছেন।

অভিযোগটি নিয়ে চার সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করে নির্বাচন কমিশন। এটির শুনানি চলাকালে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জমা দেন ইমরান খান। এর আগে বৃহস্পতিবার ইমরানের আইনজীবী বাবর আওয়ান কমিশনের কাছে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন তার মক্কেল কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করেননি। তবে এ আবেদন গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবারের শুনানির সময় ইমরান খান অভিযোগটি নিষ্পত্তির আবেদন জানান। নির্বাচনের দিন প্রকাশিত ছবিতে ইমরান খানকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে দেখা যায়। প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মারা পাকিস্তানে আইনে বেআইনি। অভিযোগ আমলে নিয়ে এনএ-৫৩ নম্বর আসনটিতে ইমরানের জয় স্থগিত করে পাক নির্বাচন কমিশন। তবে ইমরান খানের আইনজীবীর দাবি, ওইদিন ছবি তোলার ক্ষেত্রে ইমরান খানের অনুমতি নেয়া হয়নি।

আগামী ১৩ আগস্ট জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের ডাক দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেন। ওই সময় পার্লামেন্টের নতুন নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন। জাতীয় পরিষদের সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও পার্লামেন্ট নেতা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার পিটিআই এর মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী জানান, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন ইমরান খান। সেটা পার্লামেন্টে ‘প্রথম দফার’ ভোটাভুটিতেই নির্বাচন করা হবে। জাতীয় পরিষদের একশ ৮০ সদস্যের সমর্থন রয়েছে।’

২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১১৬টি আসন পেয়ে বিজয়ী হয় সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।