গোপন বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে সৌদি আরবের ইসলামি চিন্তাবিদ আল ওদাহ

সৌদি আরবের শীর্ষ ইসলামি চিন্তাবিদ সালমান আল ওদাহ’র গোপন বিচার আয়োজনের জন্য রিয়াদে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার ছেলে। প্রায় এক বছর ধরে আটক রয়েছেন আল ওদাহ। বুধবার তার ছেলে একাধিক টুইট বার্তায় এই দাবি করেছেন। দেশটিতে বিতর্কিত সামাজিক ইস্যুতে প্রগতিশীল মতামত দিয়ে সারাবিশ্বে পরিচিতি পাওয়া ৬১ বছর বয়সী ওদাহ সুন্নি মুসলিম চিন্তাবিদ।২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অন্য ২০জনের সঙ্গে এক অভিযানে আটক হন এই চিন্তাবিদ। অনেকেই মনে করে থাকেন মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামি চিন্তাবিদদের বিরুদ্ধে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই সময়ে আটক হয়েছিলেন অনেক নারীবাদী, মানবাধিকারকর্মী ও বেশ কয়েকজন ক্ষমতাশালী ব্যবসায়ী। ভিন্ন মতাবলম্বীদের আটকের অংশ হিসেবেই তাদের আটক করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

সালমান আল ওদাহ’র যুক্তরাজ্যে বসবাস করা ছেলে আবদুল্লাহ আল ওদাহ টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, তার বাবা তাকে ফোন করে জানিয়েছেন ‘হঠাৎ করে’ তাকে জেদ্দার জেহবান কারাগার থেকে রিয়াদের আল-হায়ার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেন তাকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তার কিছুই তাকে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন আবদুল্লাহ আল ওদাহ।

Loading...

আবদুল্লাহ টুইটারে লিখেছেন, কারা কর্মকর্তারা তাকে বলেছেন তার বাবাকে ‘গোপন বিচারের’ জন্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে তারা তার বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত কোনও তথ্য বা কোথায় বিচার হবে সে বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়নি। টুইটারে তার দাবি, ‘এই ধরণের বিচারে কাউকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয় না এবং সেখানে কোনও বাস্তব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না।

আবদুল্লাহ জানান, পরিবারের সদস্যরা সাধারণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার বাবার সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে তাদের বলা হয়েছে এই মামলা পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেখভালকারী কর্তৃপক্ষ। সাধারণ বিচারিক প্রক্রিয়া এই মামলা পরিচালনা করছে না বলেও জানানো হয়েছে।

টুইটারে আবদুল্লাহ বলেন, স্পষ্ট কোনও অভিযোগ, কোনও আইনজীবী বা স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থার অনুপস্থিতি এবং কোনও তথ্য প্রকাশ ছাড়া এ ধরণের গোপন ও হঠাৎ বিচারে আমাদের আস্থা নেই। আমার বাবার নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে সরকার।

টুইটারে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ অনুসারী রয়েছে সালমান আল ওদাহ’র। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের জুনে কাতারকে নিয়ে সৃষ্ট উপসাগরীয় সমস্যায় কূটনৈতিক সমাধান চেয়ে টুইট করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। ওই সময়ে কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ এনে বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। কাতারের আমির ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে টেলিফোন আলাপের খবরের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সালমান আল ওদাহ টুইটারে লিখেছিলেন, ‘নিজেদের জনগণের জন্য আল্লাহ যেন তাদের হৃদয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেয়।’

ওদাহ’র পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, সালমান আল-ওদাহকে জেদ্দায় নির্জন কারাবাসে রেখে, চিকিৎসা ছাড়া রাখা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি মাসের পর মাস।

জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আল-কারামার আঞ্চলিক আইন কর্মকর্তা জুলিয়া লেগনার বলেছেন, আমাদের আশঙ্কা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে পূর্বনির্ধারিত রায় অনুযায়ী এবং বিশেষ অপরাধ আদালতের সামনে সালমান আল-ওদাহ এবং অন্য শান্তিকর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের গোপনে বিচার করা হবে। তিনি বলেন, আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি এই ধরণের আদালত সম্পর্কে বলেছিল তারা যথেষ্ট স্বাধীন নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এই আদালত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রায় দিতে অক্ষম বলেও জানিয়েছিল ওই কমিটি।

লেগনার বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না জানানোর মধ্য দিয়ে এবং তার আইনজীবীকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না করে এরমধ্যেই ওদাহ’র ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

এই বিষয়ে লন্ডনে সৌদি আরবের দূতাবাসের কাছে তথ্য চেয়েছে মিডল ইস্ট আই। তবে তাতে সাড়া মেলেনি।

Loading...