বেগুনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষানীদের মুখে হাসি ফুঠেছে, রফতানি হচ্ছে সারাদেশে

এ অঞ্চলের কৃষকরা বেগুন চাষ করে এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিনেই শতশত মন বেগুন ট্রাক লোড করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে সে খানকার ব্যবসায়ীরা।

বেগুনের ভাল দাম থাকায় প্রান্তিক কৃষক ও চওড়াবাড়ী আইএফএমসি কৃষক সংগঠনসহ স্থানীয় পাইকাররাও লাভবান হচ্ছে। চওড়াবাড়ী আইএফএমসি কৃষক সংগঠনের ১১ জন নারী-পুরুষ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের কাছে থেকে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বেগুন ক্রয় করে চওড়াবাড়ী আইএফএমসি কৃষক সংগঠন আওতায় কালেকশন পয়েন্ট জমা করা হয়।

Loading...

সেখান থেকে স্থানীয় পাইকার (ব্যবসায়ী) ৮৫০ টাকা দরে বেগুন ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বেগুন ব্যবসায়ীদের কাছে ৯৫০ টাকা দরে মন বিক্রি করছেন। তাতে কৃষকরাও যেমন লাভবান হচ্ছে তেমনি স্থানীয় পাইকাররাও অনেকটা লাভবান হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বেগুনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষানীদের মুখে হাসি ফুঠেছে। এ অঞ্চলের মানুষ সাধারণত সারা বছরেই এ সব ফলনের উপর নির্ভরশীল।

তা দিয়ে চলে তাদের জীবন জীবিকা। যে সব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে বেগুন চাষ করে শতাধিক পরিবার সচ্ছল ভাবে জীবন-জীবীকা করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, খরিপ-২ (বর্ষা মৌসুমে) বেগুন চাষের উপযোগী হওয়ায় উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বেগুনের চারা রোপন করেছে।

শীত মৌসুম আস্তে এর পরিমান ২৫০ থেকে ৩০০ হেক্টর হবে। বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় যতেষ্ট সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং অনেকেই স্বাবল্বী হয়েছেন।

এখণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় স্থানীয় পাইকাররা কৃষকদের কাছে বেগুন ক্রয় করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে পৌছে দিচ্ছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এলাকার কৃষকরা অনেক গুনে লাভবান হবেন।

অঞ্চলের কৃষকরা সারা বছরেই বিভিন্ন মৌসুমে সবজির আগাম চাষ করে বদলে দিয়েছে নিজের ভাগ্যের চাঁকা। বেগুনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষানীদের মুখে হাসি ফুঠেছে।

এ বছর আগাম বেগুন চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। প্রতিটি গ্রামে সব শ্রেনী পেশার মানুষ জমিতে বানিজ্যিক ভাবে বেগুনের উৎপাদন করছেন। বর্তমানে কৃষক-কৃষানী কেউ ঘরে বসে নেই। সবাই জমিতে বেগুন তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

বেগুন চাষ করে অঞ্চলের শত শত কৃষক-কৃষানী স্বলম্বী হয়েছেন। তবে খরিপ-২(বর্ষা মৌসুমে) বেগুনের বাম্পার ফলন ও গত এক সপ্তাহ ধরে বেগুনের ভাল বাজার দাম পাওয়ার কুষক-কৃষানীদের মুখে হাসি ফুঠেছে।

উপজেলার বেগুন পাইকার (ব্যবসায়ী) হামিদুল ইসলাম ও বাবুল মিয়া জানান, আমরা সরাসরি এলাকার প্রান্তিক কৃষক ও কালেকশন পয়েন্টে থেকে প্রতিদিনেই কৃষিপণ্য বেগুন ক্রয় করে ট্রাক ও বাস যোগে ঢাকাসহ দেশেরে বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়।

তার প্রতি মন বেগুন প্রান্তিক কৃষক ও আই এফ এম সি সংগঠনের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে ক্রয় করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছ থেকে ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ।

বেগুনের ভাল দাম পাওয়ায় চাষীদের পাশাপাশি স্থানীয় পাইকারদেও মুখে যেমন হাসি ফুঠেছে । তারা আশা করছে গত বছরের চেয়ে এ বছর ব্যবসায় দ্বিগুন আয় হবে।

পূর্ব কুরুষাফেরুষা ও চওড়া বাড়ি এলাকার আশিদুল ইসলাম (৩৫), সুধান চন্দ্র রায় (২৭), মাসুদ মিয়া (৩২), অপিয়াল (৩৫), ধীনেন্দ্র নাথ রায় (৩৯), মনছার আলী (৬৫), পুলিন চন্দ্র রায় (৪৫), রফিকুল ইসলাম (৪৭), ঈসা মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের পরার্মশে বেগুনের বাম্পার ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় আমরা খুবেই আনন্দিত।

তারা নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমি কন্টাক নিয়ে প্রতিবছরেই বেগুন চাষসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি যেমন-পটল, লালশাক, মুলা শাক, লাউ শাক, লাউ, কাঁচা মরিচ চাষাবাদ করেই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রথম দিকে বেগুনের ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মন প্রতি বিক্রি করায় কৃষকরা একটু দুচিন্তায় পড়েছে এবং গত এক সপ্তাহ ধরে বেগুনের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়ায় কৃষক-কৃষানীদের মুখে হাসি ফুঠেছে।

তারা আশা করছেন বেগুনের বর্তমান বাজার মূল্য অব্যাহত থাকলে যাবতীয় খরচ মিটিয়ে এক বিঘা বেগুন ক্ষেতে ৬৫-৭৫ হাজার টাকা আয় করা যাবে। আয়ের টাকা দিয়ে তারা সচ্ছল ভাবে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে সুন্দর ভাবে জীবন-জীবিকা করছেন।

Loading...