মাশরাফিদের নিরাপত্তায় টেলিরোব!

আন্তর্জাতিক সিরিজে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তায় মাঠে নিয়োজিত থাকেন একাধিক শৃঙ্খলা বাহিনীর অসংখ্য সদস্য। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরাও তৎপর থাকেন অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতা দমনে। এখন থেকে তাদের কাজটি সহজ করবে নিষ্ক্রিয়যন্ত্র টেলিরোব।

প্রথমবারের মতো মিরপুরে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ ঘিরে নিরাপত্তা মহড়ার মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে টেলিরোব। যার দাম প্রায় ৫ কোটি টাকা। অত্যাধুনিক যন্ত্রটি শনিবার প্রথমবার নামানো হয় অভিযানে। বাংলাদেশ পুলিশে সংযোজিত হয়েছে দুটি রিমোর্টলি অপারেটেড ভেহিক্যাল (আরওভি)। জার্মানির বিখ্যাত টেলিম্যাক্স কোম্পানি থেকে যা কিনতে খরচ করতে হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা।

Loading...

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি লাইন ধরে টেলিরোব প্রদক্ষিণ করেছে পুরো মাঠ। পরে টেলিরোবকে রাখা হয় মাশরাফী-মুশফিকদের ড্রেসিংরুমের সামনে। যন্ত্রটি ঘিরে উপস্থিত সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের মাঝেও তৈরি হয় কৌতূহল।

দুই কিলোমিটার দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে টেলিরোবকে পরিচালনা করা সম্ভব। এর চাকা চারটি। ঘণ্টায় গতি ছয় কিলোমিটার। দেখতে অনেকটা ট্যাঙ্কের বেল্টের মতো। সংযুক্ত রয়েছে আটটি বিশেষ ক্যামেরা। যেকোনো পরিস্থিতি বা জিম্মি সংকটকালে টেলিরোবের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সংকট মোকাবেলায় কথা চালাচালি করা সম্ভব। সন্ত্রাসীদের ছবি তুলে আনার পাশাপাশি তাদের শরীর স্ক্যান করা যায়। চাইলে এতে অস্ত্র সংযোজনও করা সম্ভব।

বহুতল ভবনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম টেলিরোব। উঠে যেতে পারবে যেকোনো যানবাহনেও। প্রয়োজনে ভেঙে ফেলতে পারবে গাড়ির দরজা।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, এটি ব্যবহারে বোমা নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা হলেও কমবে। আজ আমরা মহড়া দিলাম। ক্রিকেট সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশে কাজ শুরু করল টেলিরোব।

সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা জানালেন, সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি ওজনের বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু বহন করতে পারে টেলিরোব। এছাড়া কোনো বাক্স বা বিশেষ প্যাকেটের ভেতরে বোমা থাকলে ওই বস্তুর মুখ নিজেই খুলতে পারবে আরওভি। কেউ ওকে আঘাত করলে পাল্টা আঘাত করতে পারবে। দেড়যুগের মতো সময় টেলিরোবের কাছ থেকে অপারেশন সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব। একেকটির ওজন ৭০ কেজি। বোমা নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি বোমা শনাক্ত করাই এর মূল কাজ।

গুলশানের হলি আর্টিজান ও সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গিদের বোমায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। এমন বাস্তবতা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে যন্ত্রের সহায়তা নেয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

Loading...