এবার সরিয়ে দেয়া হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে!

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর নিজের দেশেও সম্ভবত বেকায়দায় আছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যিনি এমবিএস নামেই বেশি পরিচিত। সৌদি আরবেরই কেউ কেউ ও তাদের পশ্চিমা সমর্থক যুবরাজ সালমানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিশেষ আগ্রহী।মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সাবেক এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রোববার রুশ গণমাধ্যম আরটি নেটওয়ার্ক একথা জানায়।

খাসোগিকে হত্যায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার বেশিরভাগটাই গিয়ে পড়েছে সালমানের ওপর।সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধুদের চেয়ে শত্রুই বেশি তৈরি করেছেন এমবিএস, আরটি আমেরিকাকে জানান মাইকেল মালুফ।পেন্টাগনের এই সাবেক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কৌশল উপদেষ্টা বলেন, ‘সৌদির নেতৃস্থানীয়দের যুবরাজ বেজায় বিপর্যস্ত করে তুলেছেন।’‘হাউজ অফ সৌদ’ বা সৌদি রাজপরিবারে এমবিএসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বেড়ে চলেছে বলে জানান এই বিশ্লেষক।

Loading...

প্রাসাদে বিদ্রোহীদের অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মালুফ বলেন, নিশ্চিতভাবেই তা ভাবা হচ্ছে। কারণ, সৌদি যুবরাজ রাজসভার প্রচুর সংখ্যক সদস্যকে শত্রু বানিয়ে তুলেছেন। বিদ্রোহীদের অভ্যুত্থান, ‘কেবল সময়ের প্রশ্ন মাত্র’।এমবিএসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা আশা করছেন, ‘অভ্যুত্থান ঘটানোর জন্য কাউকে সহায়তা করবে’ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো, জানান পেন্টাগনের এই সাবেক কর্মকর্তা। তবে, এটা ঘটবেই তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও আসেনি, যোগ করেন তিনি।

সৌদি আরবের বর্তমান রাজা সালমানের এক ছোট ভাই আহমেদ বিন আবদুলাজিজ সম্প্রতি নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। এই প্রেক্ষিতে আরটি আমেরিকার সঙ্গে মালুফের এই কথোপকথন ঘটে। খবরে বলা হয়, ব্রিটিশ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই তিনি সৌদি রাজত্বে ফিরে গেছেন।‘কোনও ধরনের সমর্থন না থাকলে রাজার ভাই কেন নির্বাসন থেকে বের হয়ে দেশে ফিরে আসবেন?’ প্রশ্ন রাখেন মালুফ।

সৌদি যুবরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরাও। এদের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে সৌদি আরবের অন্যতম সরব সমর্থক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও রয়েছেন। এমবিএস প্রসঙ্গে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বলেন, ওকে ক্ষমতা ‘ছেড়ে যেতে হবে’।‘এই লোক একটা বিধ্বংসী গোলা। ও তুরস্কের কনস্যুলেটে এক ব্যক্তিকে হত্যা করার পর আশা করছে আমি এটা উপেক্ষা করব। আমার মনে হচ্ছে ও আমাকে ব্যবহার ও অপব্যবহার করছে,’ বলেন গ্রাহাম।

যুবরাজকে ‘বিষাক্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সিনেট আর্মড সার্ভিসের কমিটির সদস্য ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রাহাম আরও বলেন, ‘সে কখনো বিশ্বের মঞ্চে একজন বিশ্বনেতা হয়ে উঠতে পারবে না।’এদিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুমেন্থাল আরটিকে বলেন, এটা এমবিএসের পতনের সূচনা করতে পারে।

‘মূলত পরিস্থিতিটা মাফিয়াদের কাজকর্মের মতো। কাউকে হত্যার জন্য করিৎকর্মা ঘাতক পাঠানো এবং এবং তাকে পুলিশ ষ্টেশনের সামনে ফেলে দিয়ে আসা – এটা মাফিয়াদের কাজ,’ বলেন ব্লুমেন্থাল।‘আমার মনে হয় ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র তাকে সরিয়ে দেয়ার আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পূর্ব দিকে মুখ ফিরিয়ে চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য মিত্রদেশের সহায়তা চাইবে,’ অনুমান করেন ব্লুমেন্থাল

Loading...