বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ইতিহাস রচনা করে ফেলেছে। নেপালকে পরাস্ত করে সাফ নারী চ্যাম্পিয়ন এখন বাংলাদেশ। শিরোপা এসেছে দেশের মাটিতে। নারীদের এই অর্জনে গোটা দেশজুড়ে বইছে শুভেচ্ছার বন্যা। আনন্দিত সকলেই।

সেই আনন্দের অংশীদার হলেন জয়া আহসান। তিনি দেশের নারী ফুটবল দলের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডাও দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার মুহুর্তের ছবি শেয়ার করেছেন ফেসবুকে।

নিজের ফেসবুক ওয়ালে নারী ফুটবলারদের সঙ্গে তোলা ছবি শেয়ার করে জয়া আহসান লিখেছেন, ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গৌরবজ্জল অবদান আমাদের মুক্তিযুদ্ধেকালীন সংগ্রামে এক জাদুময়ী নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আজ সাফ জয়ী নারী ফুটবল দলের এই ঐতিহাসিক জয় যেমন আমাদের গোটা বাংলাদেশকে একত্রিত করেছে। ঠিক তেমনি আমাদের মেয়েরা সুপ্ত নারী বিদ্বেষী দানবদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক আলোকিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা শুরু করল।’

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি স্থানে বিশেষ সাক্ষাৎ ঘটে তাদের। জয়ার এই পোস্টে যেমন আনন্দ রয়েছে তেমনি রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতি নতুন বার্তা।

২০১৯ সালে ‘বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব ১৯ আন্তর্জাতিক নারী গোল্ডকাপ’-এর প্রথম আসরের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন জয়া আহসান।

তখন প্রায়ই কৃষ্ণা-সানজিদাদের মাঠে বা ক্যাম্পে যেতেন এই অভিনেত্রী। লম্বা সময় তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন বলে জানিয়েছেন জয়া আহসান।

জয়া আহসান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তখন আমি ওদের সাহস দিতাম।

স্বপ্ন দেখাতাম। বলতাম, সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ (২২ সেপ্টেম্বর) সাফ জয় করে এসে ওরাই আমাকে সেই গল্পগুলো শোনালো।

এটা যে কী ভালো লাগার বিষয়, বোঝাতে পারবো না। আমি সচেতনভাবে বলছি, এটা কিন্তু ক্রেডিটের বিষয় নয়। এটা শুধুই ভালোলাগা বা আত্মতৃপ্তির বিষয়। আমি হয়তো ওদের জন্য কিছুই করিনি। কিন্তু তখন ওদের গল্পগুলো শুনেছি- এটুকুই।’

এর আগে গতকাল সাফ ফুটবল জয়ী নারীদলের সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে ছাদ খোলা বাস।

বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় থেকে বাইরে এবং ভেতরে উচ্ছাসে ফেটে পড়ে আছে এখানে অপেক্ষমান দর্শনার্থীরা। এসময় ‘জয় বাংলা’, ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান দিতে দেখা যায় উৎসুক জনতাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.