টিভি নাটকের এ সময়ের আলোচিত মডেল-অভিনেত্রীদের মধ্যে দর্শকপ্রিয় একটি নাম তাসনিয়া ফারিণ। দর্শকের কাছে ফারিণ মানেই যেন একটু বাড়তি আকর্ষণ। টোলপড়া মিষ্টি হাসি, মায়াবী চাহনি আর সেই সঙ্গে অভিনয়ের কারিশমা যে কাউকেই আকর্ষণ করে।

ক্যারিয়ারে খুব বেশি দিন না হলেও বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে ইতোমধ্যে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়।

শুধু টিভি নাটকেই নয়, অভিনয়ের দু্যতি ছড়িয়েছেন অন্য মাধ্যমেও। আলোকিত এই অভিনেত্রী এবার কাজ করতে যাচ্ছেন কলকাতার সিনেমায়। বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে থাকা এই অভিনেত্রীর সাত-সতের জানাচ্ছেন

অনেকটা বৈরী আবহাওয়া। আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা ও রোদ, এই ছায়া-প্রকৃতির এমন খেলায় মঙ্গলবার জ্যৈষ্ঠের ভর দুপুরে অভিনেত্রী ফারিণের মুঠোফোনে কড়া নাড়তেই সাড়া মেলে। মেঘলা আকাশের মতোই অনেকটা অপ্রস্তুত ছিলেন সময়ের শীর্ষ এই টিভি তারকা।

ঘর ছেড়ে ছিলেন বাইরে কোনো এক কাজে। না, শুটিংয়ে নয়, ডাবিংয়েও নন, ব্যক্তিগত কাজেই ব্যস্ত ছিলেন। ঘণ্টাখানেক পরে হলে আয়েশ করে কথা বলতে পারবেন বলে জানালেন। এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর ফের ‘হ্যালো’ বলতেই ‘জ্বি ভাইয়া’ বলে ও প্রান্ত থেকে কথা শুরু করলেন তাসনিয়া ফারিণ।

ঈদের ছুটি ও ব্যস্ততা প্রসঙ্গ শেষ হওয়ার আগেই আগবাড়িয়ে বলতে শুরু করেন তিনি। বলেন, ‘ভালোই উপভোগ করলাম ঈদের ছুটি। এবার করোনার ভয় কম ছিল। এ কারণে প্রাণখুলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সশরীরে আড্ডা দিয়েছি। বরাবরের মতো এবারও পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় ঈদ করেছি। তবে খুব বেশি কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। বেশির ভাগ সময়ই বাসাতেই ছিলাম।’
সৌরভ ছড়াচ্ছেন ফারিণ

কথায় কথায় জানা গেল, চাঁদনি রাতের আগ পর্যন্ত ঈদের নাটক নিয়ে শটিংয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলেন এই অভিনেত্রী। গত কয়েক বছর ধরে ঈদের মৌসুমে এমনটিই হয়ে আসছে তার।

মেধাবী নির্মাতাদের পছন্দের শীর্ষে তার নাম থাকায় অনেক নির্মাতা ফারিণের শিডিউল পান না বিশেষ দিবসের নাটকে। মাসের ৩০ দিনই যে ফারিণ শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন, তা কিন্তু নয়।

সংখ্যার চেয়ে গুণগতমানকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তাই কাজও করেন বেছে বেছে। তাড়াহুড়ো না করে ধীর লয়ে এগিয়ে যেতেই পছন্দ তার। ফারিণ অভিনীত এবারের ঈদের নাটকগুলোর গল্প যেমন দর্শককে টেনেছে তেমনই তার চরিত্রেও মুগ্ধতা রয়েছে। এবারের ঈদে কতটি নাটকে অভিনয় করা হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ‘সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারব না। ২০/২২টিতো হবেই। অনেক প্রস্তাব থেকে বাছাই করে এই কাজগুলো করেছি।’

ঈদের ছুটি শেষে শুরু হয়েছে নাটক-সিনেমার শুটিং। অনেকের মতো ফারিণও লাইট-ক্যামেরায় দাঁড়িয়েছেন। তবে বাংলাদেশের প্রডাকশনের নয়, ভারতের একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন তিনি। কিন্তু এর নাম, নিজের চরিত্র এমনকি পরিচালকের নামটিও বলতে রাজি নন এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমার অংশের কাজ মোটামুটি শেষ। বাকিটা পরে করব। কলকাতার প্রডাকশন হলেও ওয়েব সিরিজটির শুটিং হয়েছে বাংলাদেশে। অনেক ভালো একটি কাজ হয়েছে। প্রচারে আসার পর দর্শকরাই বিচার করবেন সত্যিই কাজটি কেমন হয়েছে।’

দর্শকদের বিচারে এ পর্যন্ত ফারিণ মানসম্মত কাজের প্রমাণ দিয়ে আসছেন। মানহীন গল্পের নাটকে অনেক নতুনরা গা ভাসালেও ফারিণ চলেন অন্য গতিতে। নাটকে গল্পের গুরুত্ব নিয়ে ফারিণ বলেন, ‘আমি বরাবরই গল্পকে প্রাধান্য দিই। গল্প শক্তিশালী না হলে চরিত্র যতই ভালো হোক- লাভ নেই। গল্প ভালো না হলে চরিত্রের গুরুত্ব বাড়ে না। গল্পই হচ্ছে একটি নাটক-সিনেমার প্রধান উপকরণ। গল্পের কারণেই দর্শক নাটক-সিনেমা দেখেন।’

ছোট পর্দায় প্রশংসিত হলেও সিনে পর্দায় এখনো দেখা মেলেনি এই তারকার। ভক্তরাও অপেক্ষায় আছেন সিনে পর্দায় কবে দেখা মিলবে ফারিণের।

সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বাংলাদেশের না হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দিত নির্মাতা অতনু ঘোষ পরিচালিত ‘আরও এক পৃথিবী’ নামের সিনেমার মধ্য দিয়ে সিনে জগতে অভিষেক হচ্ছে তার। এ সিনেমার শুটিং হবে লন্ডনে। এ জন্য গত মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়েছেন ফারিণ। ২০ মে থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত লন্ডনে চলবে এর দৃশ্যায়ন।

অতনু ঘোষের পরিচালনায় কাজ করাটা যে কোনো শিল্পীর জন্য সৌভাগ্যের। কীভাবে কলকাতার গুণী নির্মাতার সিনেমায় যুক্ত হলেন ফারিণ? চরিত্রটিই বা কতটুকু গুরুত্ব এসব নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বড় পর্দায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছি অনেক আগেই।

কিন্তু গল্প ও চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় কাজ করা হয়নি।

আর আমি এমন একটি চ্যালঞ্জিং চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে গত মার্চে অতনুদার পক্ষ থেকে এই ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব আসে। এরপর চিত্রনাট্য হাতে পাই। গল্প ও চরিত্র দুটোই আমার পছন্দ হয়েছে বলেই এতে অভিনয় করার সম্মতি জানাই। আমার অভিনীত ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ সিরিজটি দেখার পর অতনুদার টিমের সবাই আমাকে নিয়ে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেন।’

সিনেমার গল্প কয়েকজন মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে। তাদের অনুভূতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে গল্পে। এতে ফারিণের চরিত্রের নাম প্রতীক্ষা। সহশিল্পী হিসেবে কৌশিক গাঙ্গুলী, অনিন্দিতা বসু, সাহেব ভট্টাচার্যের মতো গুণী অভিনয় শিল্পীরাও এতে অভিনয় করবেন।

ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা ফরিণের। তাই প্রস্তুতিটাও তেমন হওয়া চাই। তার ভাষ্য, ‘এটি কলকাতার সিনেমা আর শুটিং হবে লন্ডনে। কথাবার্তা, সাজসজ্জা, সংস্কৃতি ও সেখানকার মানুষের জীবনধারা সম্পর্কে বিশদ জানার চেষ্টা করছি।

লুকেও পরিবর্তন এনেছি। চরিত্রটা ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য গত মাসে ১২ দিন কলকাতায় ছিলাম। ওখানে স্ট্‌িক্রপ্ট রিডিংয়ের পাশাপাশি লুক সেটও করেছি। আশা করি, সবার সহযোগিতায় কাজটি ভালোভাবে শেষ করতে পারব।’