যে সব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

বাণিজ্য মেলায় যেতে কার না ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই তাই মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলায় একবার হলেও ঢুঁ মারেন ছেলে-বুড়ো সবাই। অনেকেই পরিবার বা বন্ধু-স্বজন নিয়েও যান এ মেলায়।

 

নিঃসন্দেহে এ মেলার প্রধান দিক হলো দেশি-বিদেশি নানা পণ্যের বিকিকিনি। অনেকেই কিছু না কিনলেও ঘুরে দেখেন, খাওয়া-দাওয়া করেন। থাকে ক্ষুদ্র পরিসরে বিনোদনের সুযোগও।

কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি, চিত্তবিনোদনের মধ্যে বৃহৎ কলেবরে এ মেলায় এলে কিছু বিষয়ে সাবধান ও সচেতন থাকাটা জরুরি।

 

বাণিজ্য মেলায় ঘুরতে ও কেনাকাটা করতে আসা দর্শনার্থী-ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি সাবধান থাকতে হবে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে। মেলায় খাবারের দোকানগুলোতে দাম জিজ্ঞাসা না করে বসে গেলেই বিপদ; পকেট কেটে নেয়ার ঝক্কি থাকে। আবার আগে দাম জানতে চাইলে অধিকাংশ দোকানি খাবারের যে দাম বলেন তা শুধু অতিরিক্ত নয়, প্রায় ডাকাতি! এমনকি ছোট পানীয় বা পানির বোতলের দামও দ্বিগুণ রাখা হয়। যেমন- ২০০ এমএল মাউন্টেন ডিউয়ের গায়ে লেখা খুচরা মূল্য ১০ টাকা কিন্তু দাম নেয়া হয় ২০ টাকা। আবার আধা লিটার কোমল পানীয়ের খুচরা মূল্য ২৮ টাকা, দাম চাওয়া হয় ৪০ টাকা। ১২ টাকার ২৫০ এমএল মিনারেল ওয়াটারের দাম নেয়া হয় ২০ টাকা।

 

এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে জানাতে পারেন। এবার প্রতিদিনই মেলায় সংস্থাটির অভিযান চলবে। ভোক্তাদের অভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি মেলায় বসেই করা হবে। প্রমাণসাপেক্ষে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন অধিদফতরের পরিচালক সৈয়দ তওহিদুল রহমান।

 

নিজস্ব গাড়ি নিয়ে মেলায় যাওয়াটাও এক ধরনের হয়রানি। নিরাপদে গাড়ি পার্কিং করতেও বেশ বেগ পেতে হয়। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে গাড়ি নিয়ে মেলার পথে আসা-যাওয়ার যানজট যন্ত্রণা আর পুলিশের চোখ রাঙানি তো আছেই।

 

আরো নানা রকম সমস্যা আছে। মিরপুর রোড বা রোকেয়া সরণী যে পাশ দিয়েই মেলায় আসুন; রিল্যাক্স মুডে হাঁটছেন, হুট করে কোনো যুবক আপনার হাত ধরে রঙ-তুলি দিয়ে ‘ডিআইডিএফ’ বা এ জাতীয় কিছু লিখে দিলেন। শুরুতে ভাবলেন- এটা মেলার প্রচারণা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। লেখা শেষে হাঁটা শুরু করলেই পড়বেন বিপাকে। আপনার কাছ থেকে লেখা বাবদ টাকা চেয়ে বসবেন ওই যুবক।

 

বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে ১০/২০ টাকা দিয়েও সচরাচর পার পাওয়া যায় না। অনেকেই এমন আঁকিয়ে চক্রের খপ্পরে পড়ে ১০০-২০০ টাকা গচ্চা দিয়ে আসেন। এরা মূলত পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ নিয়ে এ ‘চাঁদাবাজি’ করেন। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনও নির্বিকার। তাই মেলায় গেলে হাতে-মুখে ছবি আঁকা বা লেখা থেকে সাবধান!

 

সাবধান থাকতে হবে কাউন্টার থেকে টিকিট নেয়ার ক্ষেত্রেও। গত বছর মেলার টিকিট কাউন্টার নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। টিকিট কিনতে কেউ কেউ ৫০০/১০০০ টাকার নোট দিলে কাউন্টার থেকে কৌশলে ১০০ টাকার নোট রেখে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে ভিডিওসহ পোস্ট দিয়েছিলেন। এমন প্রতারণা এড়াতে সঙ্গে ভাংতি টাকা রাখাই শ্রেয়।

 

মেলা থেকে কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। পণ্যের মান ও দরদাম যাচাই করে নেয়াটা ভালো। অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লোভনীয় অফার দেয়া হয়। মূলত মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিংবা পণ্যের মান খারাপের দিকে গেলে তা বিক্রির জন্যই এমন অফার। এক্ষেত্রে বুঝেশুনে অফার গ্রহণ করাই ভালো।

 

মেলার ভেতরে ধুলা-বালিতে যাচ্ছেতাই অবস্থা হয়। ধুলা-বালুর সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

অনেকেই সঙ্গে ছোট শিশুদের নিয়ে আসেন। মেলার ভিড়ে, বিশেষ করে ছুটির দিনে মেলার জনারণ্যে নিজ শিশুকে একা ছেড়ে দেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের সবসময় নিজের সঙ্গে রাখা উচিত।

 

প্রতি বছরই মেলার বিনোদন কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের রাইড থাকে। এর কয়েকটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দুর্বলচিত্তের মানুষ ও শিশুদের এসব রাইডে না চড়াই শ্রেয়।