দেশি পেঁয়াজ মিলছে ৪০ টাকায়

দেশি পেঁয়াজ মিলছে ৪০ টাকায়

সপ্তাহ খানেক আগেও ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় ছিল। এখন তা মিলছে ৪০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বেড়ে যাওয়া এবং মজুদকৃত দেশি পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

 

শুক্রবার কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজার ও মুদি দোকানে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কমার কথাও জানালো সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি।

 

এদিকে শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩২-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগের তুলনায় এখন ভারতীয় পেঁয়াজের দর কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা কমেছে।

 

শুক্রবার হিলি প্রতিনিধি হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজার ঘুরে জানালেন, গেলো দুই দিনে হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে ১২ থেকে ১৮ টাকা ও দেশি পেঁয়াজে কমেছে পাঁচ থেকে সাত টাকা।

 

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ৩২ টাকায়। চলতি মাসের ১৯ আগস্ট বন্দর দিয়ে একটি ট্রাকে ২০ টন, ২০ আগস্ট ১০টি ট্রাকে ২১৫টন, ২১ আগস্ট ২৪টি ট্রাকে ৪৯৪টন, ২২ আগস্ট ২৯টি ট্রাকে ৫৯৭টন, ২৩ আগস্ট ২৫টি ট্রাকে ৫১৯টন ও ২৪ আগস্ট ৪৫টি ট্রাকে ৯৩৪টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এভাবে গত ছয় দিনে বন্দর দিয়ে ১৩৪টি ট্রাকে ২ হাজার ৭৭৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

 

 

হিলির ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এ কারণে বাংলাদেশে হঠাৎ করে দাম বেড়েছিল পেঁয়াজের। এদিকে বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ক্রেতা সংকট দেখা দেয় এখানে। আবার ভারতের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আমদানি বাড়িয়ে দেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। ফলে পেঁয়াজের মূল্য কমে যায়।

 

এদিকে গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা ও ডিমের ডজন প্রতি দাম ১০ টাকা কমে ৯৫ টাকায় নেমেছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

শুক্রবার হাতিরপুল কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। এছাড়া প্রতি কেজি দেশি রসুন ১১০ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা, আলু কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

 

তবে ৪০ টাকার নিচে কাঁচাপণ্য বিক্রিই হচ্ছে না। পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম কমলেও খুচরা বাজারে আগের দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরবরাহ স্বাভাবিক বললেও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো বন্যার অজুহাত দিয়ে বেশি দরে পণ্য বিক্রি করছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে

 

৭০-১০০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ ধেতে ৫৫ টাকা, কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৫৫ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২০ টাকায় টাকায় বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।

 

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা কাঁঠাল বাগানের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জানালেন, তার ৫ সদস্যের পরিবার। কিন্তু মাছ মাংস ছাড়া কাঁচা বাজার করতে দৈনিক ৫শ টাকার নিচে হয় না। ব্যবসায়ীরা বন্যার কথা বলে তরকারির দাম বেশ বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে বেড়েছে জীবন যাত্রার ব্যয়। কিন্তু রাজধানীর কাঁচাপণ্য আসে ঢাকার আশপাশ এলাকা থেকে। মূলত বাজার মনিটরিং যতদিন না বাড়বে ততদিন দাম কমানো সম্ভব নয়।

 

 

রাজাবাজারে মেসে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রতিটি খাতে ব্যয় বেড়েছে। টিউশন ফি থেকে শুরু করে যাতায়াত ভাড়া। তার ওপর কাঁচাবাজারে পাগলা ঘোড়ার মতো দাম বৃদ্ধির কারণে রীতিমতো জীবন চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত ২ মাস ধরে ডিমের ওপর চলছি। কারওয়ান বাজার এসেছি কয়েক ডজন ডিম কিনতে। এখানে ডজনপ্রতি ৯৫ টাকায় পাওয়া গেলে তা এলাকার মুদি দোকানে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়।

 

 

এদিকে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা, প্রতি লিটার ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা চাল ৪২-৪৩ টাকা, পারিজা চাল ৪২ টাকা, মিনিকেট ৫৩ থেকে ৫৬ টাকা, বিআর-২৮ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, পাইজাম ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২ থেকে ৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ বেড়েছে ইলিশের দাম।

 

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছে, বন্যার কারণে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়া ইলিশ কম ধরতে পারছে জেলেরা। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমেছে। তাই একটু বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এছাড়া ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে।

 

৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০০ টাকা, প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১২০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি রুই ২৪০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩২০-৪২০ টাকা, কাতলা ৩২০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২২০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০-২০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।